
টিসিবির পণ্যে না পেয়ে এমন আক্ষেপ করে কথা বলছিলেন রংপুরের মাহিগঞ্জের মাহমুদা বেগম।
‘রংপুরের করোনজাই রোডের বাসিন্দা গৃহিনী শামীমা বেগম বলেন, আমার স্বামী মুলাটোল আলিয়া মাদরাসার এবতেদায়ী শাখার শিক্ষক ছিল, রিটায়ার্ড করেছে। চারজনের সংসার।
ট্রাকের লাইনে দাঁড়ানো একজন ভোক্তা সর্বোচ্চ দুই লিটার সয়াবিন তেল, দুই কেজি মসুর ডাল, এক কেজি চিনি, দুই কেজি ছোলা ও ৫০০ গ্রাম খেজুর কিনতে পারেন। প্রতি লিটার ভোজ্যতেল ১০০ টাকা, প্রতি কেজি মসুর ডাল ৬০ টাকা, প্রতি কেজি চিনি ৭০ টাকা, প্রতি কেজি ছোলা ৬০ টাকা ও ১৫৬ টাকা কেজি দরে ৫০০ গ্রাম খেজুর ৭৮ টাকায় বিক্রি করা হয়। বিদ্যমান বাজার মূল্যের তুলনায় টিসিবি থেকে এসব পণ্য কিনে প্রায় ৪০০ টাকা সাশ্রয় করতে পারেন ক্রেতারা। তাই টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে প্রতিদিন লাইন দীর্ঘ হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিটি পয়েন্টে উপচে পড়া ভিড়। সেহরি খেয়ে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও অনেককেই খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। পণ্য সংকট এবং উপস্থিতি বেশি হওয়ায় গ্রাহকরা টিসিবির মাল না পেয়েই ফিরে গেছেন। লাইনে দাঁড়াচ্ছেন নিম্ন এবং নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষজন।
বুধবার (৫ মার্চ) প্রেসক্লাব চত্বরে ট্রাক টিসিবির পণ্য বিক্রি করতে আসেন ডিলার মেমার্স মামুন স্টোর। বেলা ১২ টার দিকে তিনি পণ্য দিয়ে নির্ধারিত স্থানে আসলেই হুড়মুড় করে পড়েন ক্রেতারা। কে আগে পণ্য নেবেন এই নিয়ে অনেকটা হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যায়। পরিস্থিতি খারাপ হলে বেশ কয়েকজনকে পণ্য দিয়ে সেখান থেকে ট্রাক চলে যায়। শত শত ক্রেতা পণ্য কিনতে না পেয়ে চলে যান।
ক্রেতাদের অভিযোগ, টিসিবির ট্রাক সময় মতো আসে না। দেরি করে ট্রাক আসছে। কারো কারো টাকা আগে নেওয়া হয়। পরে এসে আগে মাল তোলে। এই নিয়েই হুড়োহুড়ি । মূলত চাহিদার এক তৃতীয়াংশ পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে।
রংপুর স্টেশন এলাকা থেকে আসেন ছকিনা বেগম। অন্যেও বাড়িতে কাজ করা ছকিনা বেগম প্রেসক্লাবের সামনে থেকে পণ্য তুলতে তো পারেনই নাই। উল্টো তার কাছে থাকা ১ হাজার ৬০০ টাকা হারিয়ে গেছে। তিনি বলেন, মাল না দিয়ে যখন ট্রাক যাইতেছিল তখন মানুষজন দৌড়াদৌড়ি করেছিল। আমার ব্যাগে থাকা টাকা হারিয়ে যায়। ক্ষোভে দুঃখে হাউমাউ করে কান্না করেন তিনি।
টিসিবির রংপুর অফিসের প্রধান হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা আগে প্রতি ট্রাকে ২০০ করে দিতাম। এখন ৪০০ জনকে দিচ্ছি। একটি দুষ্টু চক্র ঝামেলা করছে। এছাড়াও এক এলাকার লোকজন অন্য এলাকা গিয়ে পণ্য নেওয়ার চেষ্টা করছে। এই কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা সতর্ক এবং কঠোর