
মোঃ এমদাদুল কাসেম সেন্টু, উজিরপুর প্রতিনিধি: বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের কাজিরা গ্রামে সাবেক ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদ করায় ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফকরুল হাসান চুন্নুর ওপর অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ২১ আগস্ট শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বামরাইল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাজিরা গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত বিএনপি নেতা ফকরুল হাসান চুন্নু ২২ আগস্ট উজিরপুর মডেল থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও আহত ব্যক্তির সূত্রে জানা যায়, ২১ আগস্ট রাত ১০টার দিকে কাজিরা গ্রামের মৃত মোঃ দেলোয়ার ফকিরের ছেলে ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফকরুল হাসান চুন্নু বড়াকোঠা ইউনিয়নের পূর্ব বড়াকোঠা স্টিল ব্রিজ সংলগ্ন সান্টু হাওলাদারের দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তিনি তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর দেশ পরিচালনা ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তার বক্তব্যে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই গ্রামের আঃ মন্নান মোল্লা (৫৫), মোঃ সাইদুল মোল্লা (৩০), মোঃ মমিন মোল্লা (২০), মোঃ এনামুল মোল্লা (৪২), মোঃ আমিন মোল্লা (৩৫), মোঃ মেহেদী মোল্লা (৩৫) ও মোঃ ইউনুচ মোল্লা (৪৫) তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও কটূক্তি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, কটূক্তির প্রতিবাদ করায় ওই ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধ হয়ে ফকরুল হাসান চুন্নুর ওপর হামলা চালান। এ সময় তাকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উজিরপুর হাসপাতালে ভর্তি করেন।আহত ফকরুল হাসান চুন্নুর দাবি, রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয় ও পূর্ববিরোধের জের ধরে তার ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের দোসর ও সন্ত্রাসী বাহিনী আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে।”এ ঘটনায় ফকরুল হাসান চুন্নু বাদী হয়ে উল্লেখিত ৭ জনকে আসামি করে ২২ আগস্ট উজিরপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের বিষয়ে উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রকিবুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এদিকে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ভুক্তভোগী পরিবার। একই সঙ্গে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।