
ফাহিম ফিরোজ, বরিশাল :
ভালো জীবনের আশায় ধারদেনা করে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন বরিশাল নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাকাঠি এলাকার রিকশাচালক আব্দুল মোতালেবের ছেলে মো. রমজান তালুকদার (২৬)। বিদেশে গিয়ে কাজ করে পরিবারের অভাব ঘোচানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন পরিণত হয়েছে দুর্বিষহ বাস্তবতায়। সৌদি আরবে পর্যাপ্ত কাজ না পেয়ে দীর্ঘদিন অর্ধাহারে-অনাহারে থাকার পর অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরেছেন তিনি। এরপর আর সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি রমজান।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট দালাল মোতালেবের মাধ্যমে কাজের সন্ধানে সৌদি আরবে যান রমজান। বিদেশ যেতে ধারদেনা করে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ করেন তার পরিবার। সেখানে গিয়ে প্রত্যাশিত কাজ না পাওয়ায় চরম অর্থকষ্টে দিন কাটাতে হয় তাকে। দীর্ঘ প্রায় ১৭ মাস প্রবাসে থাকার পর অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফেরেন রমজান।
দেশে ফেরার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে তার।
পরিবারের দাবি, একপর্যায়ে তার শরীরে রক্ত উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে প্রতি মাসে নিয়মিত রক্ত দিতে হচ্ছে তাকে। পাশাপাশি চিকিৎসা চালিয়ে যেতে প্রতি মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকার ওষুধ প্রয়োজন হচ্ছে। পরিবারের সামর্থ্য না থাকায় রমজানের চিকিৎসা ব্যয় বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
অসুস্থ রমজান এখন অধিকাংশ সময় শয্যাশায়ী।
একসময় বিদেশে গিয়ে পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখা এই তরুণ এখন নিজেই পরিবারের বোঝা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। নিয়মিত রক্ত ও ব্যয়বহুল ওষুধের ওপর নির্ভর করে কোনোভাবে জীবন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
রমজানের চাচা মো. হারুন তালুকদার বলেন, “রমজান পরিবারের অভাব দূর করার জন্য বিদেশে গিয়েছিল। বিদেশে গিয়ে ঠিকমতো কাজ পায়নি। অনেক কষ্ট করে দেশে ফেরার পর তার শরীর আরও খারাপ হয়ে যায়। এখন প্রতি মাসে রক্ত দিতে হয়, ওষুধ কিনতে হয়। আমাদের পরিবারের পক্ষে এই খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না।”
রমজানের বাবা রিকশাচালক আব্দুল মোতালেব বলেন, “ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য ধারদেনা করে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করেছি। আশা ছিল ছেলে কাজ করে সংসারের হাল ধরবে। কিন্তু অসুস্থ হয়ে দেশে ফিরে এখন নিজেই চিকিৎসার জন্য অন্যের সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। আমি রিকশা চালিয়ে সংসার চালাই, ছেলের চিকিৎসার এত টাকা জোগাড় করা আমার পক্ষে অসম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “আমার ছেলের চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান মানুষ ও সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। নিয়মিত রক্ত ও ওষুধের খরচ জোগাড় করতে না পারলে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে যাবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো: সাইফুল ইসলাম জানান, রমজানের পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে রিকশা চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। ছেলের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি এখন চরম সংকটে পড়েছে। তাই রমজানের চিকিৎসায় সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, রমজানের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ এবং নিয়মিত চিকিৎসা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তার প্রয়োজনীয় রক্ত ও ওষুধের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকা খরচ হবে। এতো টাকা রিকশাচালক বাবার পক্ষে যোগান দেয়া সম্ভব নয়। তাই আর্থিক সহায়তার জন্য এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ওই যুবক।
স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে যাওয়া রমজানের জীবন এখন থমকে গেছে হাসপাতাল, রক্তের ব্যাগ আর ওষুধের প্যাকেটে। পরিবারের একমাত্র প্রত্যাশা—সঠিক চিকিৎসা ও সহযোগিতা পেলে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন ২৬ বছরের এই তরুণ।
আর্থিক সহায়তার জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৬১৫২১১৮৮৯ (বিকাশ)
০১৭৫৭১৭৭৯০৬ (নগদ)