
মোঃপারভেজ হাওলাদার, বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি ঃবরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নে মেলার নামে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল অশ্লীল নৃত্য, জুয়ার আসর ও নানা অবৈধ কর্মকাণ্ড। এতে করে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি যুব সমাজ বিপথে চলে যাচ্ছিল বলে অভিযোগ ছিল স্থানীয়দের। একাধিকবার প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করেও যখন কোনো স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি, তখন জনতা নিজেরাই এর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেয়।
শুক্রবার (১৩ জুন) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে এলাকাবাসী ও তাওহিদি জনতা মিলে মেলা প্রাঙ্গণে হানা দিয়ে ভাঙচুর চালায়। এরপর তারা অশ্লীল নৃত্য মঞ্চ, জুয়ার টেবিলসহ পুরো অবৈধ স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং সম্পূর্ণ মঞ্চ ও তাবুগুলো পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন অজুহাতে প্রতি বছর কেদারপুরে মেলার আয়োজন করা হলেও এর মূল উদ্দেশ্য ছিল রাতের অন্ধকারে অশ্লীলতা ও জুয়া। নারী নৃত্যের নামে সেখানে তরুণ-যুবকদের এক প্রকার ফাঁদে ফেলে টাকার লেনদেন, মাদক ও বিকৃত বিনোদন চলতো নির্লজ্জভাবে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিযান চালানো হলেও চক্রটি বিভিন্নভাবে আবারও সক্রিয় হয়ে যেত। প্রশাসনের অস্থায়ী নজরদারির সুযোগে তারা মেলা চালিয়ে যাচ্ছিল, যা এলাকাবাসীর ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়ে যায়।
স্থানীয় এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বারবার প্রতিবাদ করেছি, মানববন্ধন করেছি। কিন্তু আমাদের কণ্ঠ কেউ শোনেনি। আজ আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে আমরা বাধ্য হয়েছি এমন সিদ্ধান্ত নিতে।”
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু অভিযান নয়, এই ধরনের মেলা ও চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ও স্থায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে। একইসঙ্গে তারা আশা করছেন, দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
বাবুগঞ্জে এ ঘটনাটি এখন আলোচনা ও সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।