
মোঃপারভেজ হাওলাদার, বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি ঃবরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় আমানতের টাকা ফেরত না পেয়ে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির এক মাঠকর্মীর বাড়ি ঘেরাও করেছেন ক্ষুব্ধ পলিসি গ্রাহকরা। রোববার সকালে উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত পলিসি গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছেন শাহিন খান, গোবিন্দ চন্দ্র, আব্দুর রহমান, পারুল বেগম, রহিমা বেগম, মাহিনুর বেগম, খালেদা বেগমসহ আরও শতাধিক ব্যক্তি। তারা জানান, ২০১০ সালে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কর্মকর্তাদের প্রলোভনে পড়ে ১২ বছর মেয়াদী একটি ডিপিএস পলিসিতে বিনিয়োগ করেন। প্রতি মাসে ৫০০ টাকা জমা দিয়ে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রতি গ্রাহক প্রায় ৭২ হাজার টাকা জমা করেন।
তবে পলিসির মেয়াদ শেষ হয়ে দুই থেকে তিন বছর কেটে গেলেও কোম্পানি তাদের জমা টাকা তো ফেরত দেয়নি, বরং লাভের ব্যাপারটিও এখন ‘ধোঁয়াশা’ বলে দাবি গ্রাহকদের। বরিশাল বিভাগীয় অফিসে যোগাযোগ করলেও তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
এ ব্যাপারে বাবুগঞ্জের মাঠকর্মী জুলহাস ফরাজীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গ্রাহকদের দাবির সত্যতা স্বীকার করে জানান, পলিসির মেয়াদ শেষ হওয়া গ্রাহকদের বই তিনি বিভাগীয় অফিসে জমা দিয়েছেন। কিন্তু বিভাগীয় কর্মকর্তারা টাকা ফেরত দিতে গড়িমসি করছেন, যার ফলে তিনি নিজেও মানসিক চাপে আছেন এবং গ্রাহকদের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র যেতে বাধ্য হয়েছেন।
জুলহাস আরও জানান, তিনি ২০০৯ সালে বরিশাল বিভাগীয় এরিয়া ম্যানেজার আসলাম হোসেন বাচ্চুর সহযোগিতায় কোম্পানির কার্যক্রম শুরু করেন। শুরুতে বলা হয়েছিল, ১২ বছর মেয়াদ শেষে গ্রাহকদের জমা টাকা দেড়গুণ লাভসহ ফেরত দেওয়া হবে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, মেয়াদ পূর্তির আগেই এরিয়া ম্যানেজার ও বিভাগীয় ইনচার্জ সোহেবের কর্মকাণ্ডে গাফিলতি দেখা দেয় এবং বর্তমানে গ্রাহকদের সঙ্গে কোম্পানির কর্মকর্তারা অশোভন আচরণ করছেন।
বিষয়টি নিয়ে বরিশাল বিভাগীয় ইনচার্জ সোহেব জানান, কর্মীদের অভিযোগ সত্য নয়। তবে তিনি স্বীকার করেন, শতাধিক গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং এখনো দুই শতাধিক গ্রাহকের টাকা বাকি রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত হেড অফিসে ধর্ণা দিচ্ছি, কিন্তু তারা কাগজপত্রে ভুল ধরে সময়ক্ষেপণ করছে। পপুলার লাইফের ভাবমূর্তি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, কেউ আর এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করতে চায় না।”
গ্রাহকরা দ্রুত সময়ে টাকা ফেরতের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং এ সমস্যা সমাধানে সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি তুলেছেন।