
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশাল সদর উপজেলার ‘সাহেবেরহাট সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা’ অধ্যক্ষ আবু হানিফ একই পরিবারের আপন ৪ বোন কে বিবাহ করে তালাক দেওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি অধ্যক্ষ আবু হানিফ ছোট স্ত্রী মোসা. জাকিয়াকে তালাক দেওয়ার পরই বিষয়টি জনমুখে প্রকাশ্যে আসে। তবে তিনি স্বামীকে ছাড়তে রাজি না। বিষয়টি সামাধানের জন্য ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতিসহ বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেছিলেন বলে জানান জাকিয়া।
এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ‘সাহেবেরহাট সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা’ উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো. হারুন বলেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে নিজে উপস্থিত থেকে একাধিকবার পারিবারিকভাবে মীমাংসা করিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু আবার তাদের পারিবারিক জীবনে সেই সমস্যার আগমন ঘটে। অধ্যক্ষ আবু হানিফ স্যার একজন ভালো মানুষ এবং অনেক মেধাবী।
মুঠোফোনে ‘সাহেবেরহাট সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা’ অধ্যক্ষ আবু হানিফ প্রথমে ভালোভাবে আন্তরিকতার সাথে কথা বললেও আপন ৪ বোন কে বিবাহ করে তালাক দেওয়ার তথ্য জানতে চাইলে নেটওয়ার্কে সমস্যা বলে জানান। পরে তিনি কথা বলবেন বলে ব্যক্ত করেন।
জানা গেছে, অধ্যক্ষ আবু হানিফ একই পরিবারের আপন ৪ বোন কে বিবাহ করে তালাক দেওয়ার ঘটনায় ওই পরিবারের মধ্যে কারো সাথে কারো সম্পর্ক ভালো নেই। কারণ, অধ্যক্ষ আবু হানিফের কারিশমায় আপন বোনরা হয়ে উঠেছে সতিন।
জাকিয়া বলেন, তার সংসারে ১ ছেলে ও ১টি মেয়ে রয়েছে। আমার স্বামী বিগত দিনে আমার ৩ বোনকে বিবাহ করছে। প্রথমে বড় বোন রুনু কে বিয়ে করে। সেই সংসারে ২টি মেয়ে ও ১টি পুত্র সন্তান আছে। বড় বোন রুনু মারা যাবার পর আমার মেজো বোন মীরুর সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলে। মীরুর সাথে অবৈধ সম্পর্কের পর বোন জেসমিন কে বিয়ে করেন তিনি। সেই সংসারে কোন সন্তান নেই। তাকে তালাক দিয়ে নানা কূটকৌশল প্রয়োগ করে আমাকে বিয়ে করেন। এখন কয়েক মাস ধরে আমাদের কোন খোঁজ খবর নেয় না এবং সংসারের কোন খরচ দেয় না।
পরে আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি- আমার স্বামী অন্যত্র একাধিক মহিলার সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন এবং নতুন করে বিবাহ করার চেষ্টায় রয়েছেন। বর্তমানে আমি সন্তানদের নিয়ে অসহায় অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করিতেছি। আমি চাই- আমার স্বামীর অন্যত্র অবৈধ সম্পর্ক বন্ধ হোক এবং স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন ফিরে এসে সংসারের সকল ভরণ পোষণের দায়িত্ব বহন করুক।