
মো:এমদাদুল কাসেম সেন্টু, উজিরপুর প্রতিনিধিঃ বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধুর উপর দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে প্রবাসী স্বামীর পরিবার বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে উজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় নির্যাতিতা বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। আহত ও অভিযোগ সুত্রে জানা যায় উপজেলার শোলক ইউনিয়নের রামেরকাঠী গ্রামের আদম আলী হাওলাদারের মেয়ে শারমিন বেগম(২৮) এর সাথে বামরাইল ইউনিয়নের মুগাকাঠী গ্রামের রাজ্জাক সরদারের ছেলে মোঃ লিটন সরদারের সাথে ২০১৬ সালে সামাজিক বিবাহ হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে মোঃ হাফিজুল সরদার(৮) ও মেয়ে নিশাত জাহান হুমায়রা নামের দুটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে স্বামীর স্ব-পরিবার মিলে রেশমা বেগমকে প্রায়ই মারধর করতো। এরই প্রেক্ষিতে ৬ জানুয়ারি সকাল ৮ টায় মারধর করে শশুর রাজ্জাক সরদার, শাশুড়ী মর্জিনা বেগম ও ননদের মেয়ে শিমলা বেগম। শারমিনের পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে উজিরপুর হাসপাতালে ভর্তি করায়। এরপর ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য স্বামীর পরিবারের লোকজন তাকে বাড়িতে নিয়ে যায়। কিন্তু তাকে শাশুড়ি ঘরে ঢুকতে দেয়নি। কোন উপায়ন্তর না পেয়ে গভীর রাতে চাচা শশুর ফিরোজ সরদারের ঘরে আশ্রয় নেন গৃহবধূ। ৭ জানুয়ারি সকালে ননদ শিমু বেগমসহ সকলে মিলে পুনরায় শারমিন বেগমের উপর হামলা চালায়। পরিবারের লোকজন আহতকে উদ্ধার করে উজিরপুর হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ ব্যপারে আহত শারমিন বেগম জানান বিয়ের সময় আমার বাবার নিকট থেকে ৫ লক্ষ যৌতুক নেয় এবং সৌদি আরবে যাওয়ার সময় ধার বাবদ ৩ লক্ষ টাকা নেয়। এছাড়া কয়েক দিন পূর্বে আরো ২ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে এতে রাজি না হওয়ায় আমার উপর হত্যার উদ্দেশ্যে দফায় দফায় হামলা চালায়। অভিযুক্তরা বিষয়টি এড়িয়ে যায়। উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুস সালাম জানান উভয় পক্ষ পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।