
নিউজ ডেস্ক ॥ মাজারে বার্ষিক ‘ওরশ মাহফিল’ পালনে জবাইকৃত গরু নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বরিশাল কাশিপুর লাকুটিয়া সড়ক সংলগ্ন ‘দুই আউলিয়ার মাজার শরীফ’ জবাইকৃত ওই গরু ‘বৈধ-অবৈধতা’ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টার লাল ও কালো ধূসর বর্ণের একটি ষাঁড় গরু জবাইয়ের পরই তোলপাড় সৃষ্টি হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ২নং কাশিপুর ইউনিয়ন বিএনপি আহবায়ক কমিটির ৬ নং যুগ্ম আহ্বায়ক ছানাউল্লাহ্ কবির এর কারিশমায় অবৈধ পন্থায় গরুটি জবাই করা হয়ে বলে এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।
ছানাউল্লাহ্ কবির বলেন, ৮ মাস পূর্বে আবহাওয়া অফিস সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা নাসিরের একটি লাল রং এর গরু হারিয়ে গিয়ে ছিল। মালিক বিহীন ওই গরুটি মাজারের সামনে বাঁধা ছিল। পরে নাসির এসে গরু নিয়ে যায়। সেই গরুটি এই গরু বলে এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। মূলত জবাইকৃত গরুটি চরমোনাইর হাট থেকে ক্রয় করা হয়েছে। যার রিসিভ কপি রয়েছে। ৩২৯৪১ নং রিসিভ কপিতে উল্লেখ রয়েছে, ক্রেতা ফরিদ আর বিক্রেতা কামাল এর নাম। গরুর মূল্য ৮০ হাজার টাকা। খাজনা দেয়া হয়েছে ১০০ টাকা। তারিখ ১২/৯, সাল উল্লেখ নেই। এছাড়া রিসভ কপিতে অন্য কোন তথ্য নেই। একটি মহল এলাকায় গুজব ছড়িয়ে দিয়েছে।
নাসির বলেন, হ্যাঁ আমার একটি গরু ৮ মাস আগে হারিয়ে ছিল। পরে মাজারের সামনে পেয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম।
ফরিদ হাওলাদার জানান, গরুটি একজনে দান করেছে। তাই আমার নামে ক্রয় করেছে। নাম গোপন রেখে অনেকেই মাজারে গরু ও টাকা ইত্যাদি দান করে।
জুয়েল হাওলাদার বলেন, বিষয়টি আজ জানতে পারছি। কেউ বলছে মালিক বিহীন গরু। আবার শুনছি এটা ৫/৬ মাস ধরে কয়েকজনে লালন পালন করেছিল। আবার কেউ বলছে, এটা চরমোনাইর হাট থেকে কিনে দান করছে। আসলে কোন বিষয়ি সঠিক ? তা জানি না।
কালু মুন্সী বলেন, গত ৫৮ বছর ধরে মাজার নিয়ে স্থানীয়ভাবে একটি মহল নানা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। এখনও তাই চলছে। মাজারের অনেক মানুষ পরিচয় গোপন রেখে অনেক কিছু দান করে।
বাজার কমিটির সভাপতি মনির বলেন, কয়েক মাস আগে থেকেই গরুটি লালন পালন করা হয়েছিল। এরপর জবাই করা হয়। মাজারে অনেকেই দান করে। তবে দান করা নাকি সরাসরি ক্রয় করা তা সঠিক জানি না।
উপরোক্ত বক্তব্যের পর্যালোচনায় উঠে আসে গরুর ‘বৈধ-অবৈধতা’ নিয়ে। যেমন- গরু ক্রয়কৃত রিসিভে পিতার নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর উল্লেখ থাকলেও ক্রেতা বিক্রেতার কারোই তা নেই। আবার ১২/৯ বলতে- ১২ সেপ্টেম্বর বুঝালেও সাল নেই। যদি চলমান বছরের ১২ সেপ্টেম্বর গরুটি কেনা হয় তাহলে লালন পালনের প্রশ্নই উঠে না। গরুটি প্রসঙ্গে বক্তব্যগুলো ভিন্ন ভিন্ন রেখায় প্রবাহিত হচ্ছে। যে কারণে জনমনে নানা প্রশ্নের দানাবেঁধে উঠেছে।
অনুসন্ধানকালে জানে যায়, ফল ব্যবসায়ী হানিফ ওরফে হানু মসজিদ-মাজার নিয়ে তর্ক বির্তকের এক পর্যায় শুক্রবার ওপেনে বলে ফেলেন, মাজার যদি এত ভালোই হয় তাহলে যে গরুটি জবাই দিলেন এটা কোন গরু। এরপর থেকে সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন স্থানীয়-জাতীয় পত্রিকার একাধিক সাংবাদিক সহ সিটিএসবি পুলিশের সদস্যরা। ‘দুই আউলিয়ার মাজার শরীফ’ ৫৮ তম বার্ষিক ‘ওরশ মাহফিল’ উপলক্ষে আসা লোকজনদের গরুটির মাংস রান্না করে খিচুরী করা হবে।