ওই স্থানের নালাসমূহের একটি নালা ওই পানিতে সম্পূর্ণরূপে পূর্ণ হয়ে গেল। তখন সেই লোকটি পানির অনুগমন করে চলল। চলার পথে সে এক লোককে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখতে পেল, যে কোদাল দিয়ে পানি বাগানের সব দিকে ছড়িয়ে দিচ্ছে।এটা দেখে সে তাকে বলল, হে আল্লাহর বান্দা! তোমার নাম কী? সে বলল, আমার নাম অমুক, যা সে মেঘখণ্ডের মাঝে শুনতে পেয়েছিল। তারপর বাগানের মালিক তাকে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর বান্দা! তুমি আমার নাম জানতে চাইলে কেন? উত্তরে সে বলল, যে মেঘের এই পানি, এর মাঝে আমি এই আওয়াজ শুনতে পেয়েছি, তোমার নাম নিয়ে বলছে যে অমুকের বাগানে পানি দাও। এরপর বলল, তুমি এই বাগানের ব্যাপারে কী করো? মালিক বলল, যেহেতু তুমি জিজ্ঞেস করছ তাই বলছি, প্রথমে আমি এই বাগানের উৎপন্ন ফসলের হিসাব করি। অতঃপর এর এক-তৃতীয়াংশ সদকা করি, এক-তৃতীয়াংশ আমি ও আমার পরিবার-পরিজনের জন্য রাখি এবং এক-তৃতীয়াংশ বাগানের উন্নয়নের কাজে খরচ করি। (মুসলিম, হাদিস : ৭৩৬৩)
সদকা যে শুধু দুনিয়ার বিপদ-আপদ থেকে মানুষকে রক্ষা করে তা-ই নয়, পরকালেও সদকার সুফল ভোগ করা যায়। কিয়ামতের কঠিন দিন সদকাকারীরা তার কৃত সদকার ছায়ায় আশ্রয় পাবে বলে হাদিস শরিফে পাওয়া যায়। উকবা ইবনে আমির (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, হাশরের ময়দানে বিচারকালে প্রত্যেক ব্যক্তিই নিজের দানের ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করে থাকবে। (আত তারগিব ওয়াত তারহিব, হাদিস : ১২৯৫)
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে নিয়মিত সদকা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।