
মো: এমদাদুল কাসেম সেন্টু,উজিরপুর প্রতিনিধিঃ বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের দক্ষিণ মোড়াকাঠি গ্রামে এক শিক্ষার্থীর মা বললেন ইউপি সদস্য সুমনের অনুমতি নিয়েই বাল্য বিয়ে পড়ানো হয়েছে। সুত্রে জানা যায়, প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে নোটারী বিয়ের নামে অহর অহর চলছে বাল্য বিবাহ। দক্ষিণ মোড়াকাঠি ১নং ওয়ার্ডের মোঃ মিল্টন সরদারের ছেলে এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র মোঃ রুবেল সরদারের সাথে নাটোর জেলার জলডাঙ্গা উপজেলার কাশোবাড়িয়াহরিদা খলসা,বিপ্রবেলঘড়িয়া গ্রামের নিলু হোসেনের মেয়ে নিতু খাতুন(১৬) এর নোটারীর মাধ্যমে বাল্য বিয়ে হয়। গত রবিবার সকালে দক্ষিন মোড়াকাঠী মিল্টন সরদারের বাড়িতে দুই নাবালক শিক্ষার্থী পাওয়া যায়। তারা নোটারীর মাধ্যমে বিয়ে করে দাম্পত্য জীবন শুরু করেছে বলে জানান। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে শিক্ষার্থী রুবেল সরদারের মা মোসাঃ বিলকিস খানম সাংবাদিকদের জানান,আমার ছোট্ট ছেলে রুবেল মোবাইল ফোনে নিতু খাতুনের সাথে ১ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক হয়। এরই প্রেক্ষিতে কিছু দিন পূর্বে আমার ছেলে ওই মেয়েকে বিয়ে করার জন্য বিষপান করে আত্মহত্যা করবে বলে হুমকি দেয়। এরপর আমি বিষয়টি মেম্বার সুমনকে জানাই। সে কোর্ট কাবিন করে ঘরে তুলে নিতে বলে। তাই তার অনুমতি নিয়েই বাল্য বিয়ে পড়ানো হয়েছে এবং তাদেরকে মেনে নেয়া হয়েছে। এতে কোন আইনি ঝামেলা নেই। আমরা খাওয়াবো,আমরা পড়াবো, তাতে বয়স কম,বেশি এতে কিছুই যায় আসেনা। এছাড়া অল্প বয়সে বিয়েতে যদি অপরাধ হতো তাহলে আর মেম্বার সুমন এ বিয়ের জন্য অনুমতি দিতোনা। তিনি আরো বলেন এ তথ্য যারা সাংবাদিকের দিয়েছে তাদের নাম জানতে পারলে তাদেরকে মেরে লাশ বস্তায় ঢুকিয়ে নদীতে ফেলা হবে। বাবা মিল্টন সরদার জানান, ইউপি সদস্য সুমনকে না জানিয়ে কিছুই করিনা। আমার বাড়িতে না গিয়ে আমাকে ফোন করলেই আমি আপনাদের কাছে গিয়ে সব খুলে বলতাম। রুবেল সরদার, সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ি থেকে চলে যায় । ইউপি সদস্য মোঃ জহিরুল হক সুমন জানান,তাদের বয়স কম কিনা তা আমি জানিনা,বিষয়টি নিয়ে মিল্টন সরদার আমাকে জানালে আমি বলেছি তোমার ছেলের স্ত্রীকে তোমরা ঘরে তুলবা এতে আমার আপত্তি নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তি জানিয়েছে, বখাটে রুবেল এতো কম বয়সে নাটোর থেকে আরেক নাবালিকা মেয়েকে ফুসলিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এবং বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ভাগিয়ে নিয়ে আসে। এরপর ঘটনা ধামাচাপা দিতে নোটারী বিয়ের নামে বাল্য বিয়ে করে। “দুজনেই নাবালক, কি করে এ বিয়ে হয় প্রশ্ন জনমনে? উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাফর আহম্মেদ জানান, বিষয়টি জানা নেই, তবে খতিয়ে দেখা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাখাওয়াত হোসেন জানান, তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এদিকে দুটি নাবালক শিক্ষার্থীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নষ্টকারী এবং বাল্য বিবাহের সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন সচেতন মহল।