
এমদাদুল কাশেম সেন্টু: বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের সাতলা গ্রামে এক ঘেরে অক্সিজেনের অভাবে মরছে মাছ,বিষ প্রয়োগের নামে ভূল ব্যাখা দিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাসাত বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে অসাধুরা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১৮ মার্চ রাতে আচমকা ঝড় শুরু হয়। এতে উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড পশ্চিম সাতলা গ্রামের গোলাম কিবরিয়া হাওলাদারের মাছের ঘেরের অনেক মাছ অক্সিজেনের অভাবে মরে যায়। এ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ইদ্রিস হাওলাদার ও রুবেল বালী। উল্লেখ্য ১৬ মার্চ সাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদারের নির্দেশে আসাদ বাহিনী রাতের আঁধারে তান্ডব চালিয়ে কোটি টাকার ক্ষতিসাধন করে, প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী। ১৭ মার্চ বেলা ১১ টায় পশ্চিম সাতলা গ্রামে ভুক্তভোগী সাবেক ইউপি সদস্য রুবেল বালী ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ ইদ্রিস হাওলাদারের নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন শাহাদাত বালী, সেলিম বালী, রুবেল হাওলাদার, গিয়াস মিয়া,ইসাহাক বালী,হাফিজুর মিয়া,মাফিজুল বালিসহ শত শত নারী-পুরুষ। উল্লেখ্য ২০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০ টায় রুবেল বালী,ইদ্রিস বালীসহ একাধিক ভূমি মালিক তাদের নিজস্ব অর্থায়নে নিজেদের ভোগদখলীয় জমিতে চলাচলের রাস্তা নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করলে ওই এলাকার আসাদ হাওলাদার, সোহেল হাওলাদার, ইলিয়াস হাওলাদার, মুফাত হাওলাদার, খলিল হাওলাদার, শাওন ভট্রি,কাইয়ুম ভট্রি,ফেরদৌস হাওলাদার,কিবরিয়া হাওলাদারসহ অজ্ঞাত ভারাটিয়া সন্ত্রাসী মিলে দেশীয় অস্ত্র সাজে সজ্জিত হয়ে মোহড়া দেয় এবং রাস্তা নির্মাণ কাজে বাঁধা দেয় এবং অতর্কিত হামলা চালিয়ে রুবেল বালীসহ কয়েকজনকে গুরুতর আহত করে। হামলার ঘটনায় উল্লেখ্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী রুবেল বালী বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নম্বর ২০। সে মামলার প্রধান আসামী আসাদ হাওলাদারকে পুলিশ গ্রেফতার করে বরিশাল জেল হাজতে প্রেরণ করেন। আসামী আসাদ হাওলাদার বেশ কিছুদিন হাজতবাস করে জামিনে এসে ফের বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি অব্যাহত রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৬ মার্চ রাতে আসাদ বাহিনী রুবেল বালীর বসতবাড়ি ও মাছের ঘেরে তান্ডব চালিয়ে কোটি টাকার ক্ষতিসাধন করেছে। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী। এসময় ভুক্তভোগী রুবেল বালী,ইদ্রিস হাওলাদারসহ বিক্ষুব্ধরা বলেন,ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শাহীন হাওলাদারের হুকুমে চিন্হিত সন্ত্রাসী আসাদ বাহিনীরা হামলা চালায় এবং আমাদের রাস্তা নির্মাণের জন্য ব্যবহৃত ড্রেজারের ৪টি মেশিন, ট্রলারের ১টি মেশিন, জেনারেটরের ২ টি মেশিন, সেচ পাম্প ২ টিসহ ১১ টি মেশিন আগুন দিয়ে সম্পুর্ন পুড়ে ফেলেছে এবং মজুদ রাখা মুরগীর খাবার শতাধিক বস্তা মাছের ঘেরে ফেলেছে এবং কয়েক হাজার ফুট পাইপ কেটে ফেলেছে ওই সন্ত্রাসীরা। এতে করে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ মরে যায়। এছাড়াও মুরগীর ফার্মে ও বসতঘর কুপিয়ে তছনছ করে আসাদ বাহিনী। প্রায় কোটি টাকার ক্ষতিসাধন করেছে সন্ত্রাসীরা। ওই হামলার ঘটনায় রুবেল বালী বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদারসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সে মামলায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে চেয়ারম্যানসহ সকল আসামিরা। এছাড়া নিজেদের অপকর্ম ও হামলার ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য অক্সিজেনের অভাবে মাছ মরার বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে আসামি পক্ষরা। অভিযুক্ত আসাদ হাওলাদার পালিয়ে থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। রুবেল বালী জানান মুলত ভূমিদস্যু ইউপি চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদার ক্ষমতার দাপটে জোরপূর্বক মাছের ঘের করার মিশন ব্যর্থ হয়ে বেপরোয়া হয়ে তার বাহিনী নিয়ে একের পর এক তান্ডব চালায়। তাকে অচিরেই আইনের আওতায় আনা উচিৎ। এদিকে চেয়ারম্যান বাহিনী ও কৃষকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করেছে সাতলাবাসী।