
লিটন বাইজিদ, বরিশাল: বাংলার বাঘ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘরে উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হকের ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা, আলোচনা সভা, প্রবন্ধ পাঠ ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) আয়োজিত অনুষ্ঠানে শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হকের জীবন, কর্ম, রাজনৈতিক দর্শন, শিক্ষা বিস্তার এবং সমাজ সংস্কারে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও গবেষণাভিত্তিক সংগঠনের প্রতিনিধি, লেখক, গবেষক, শিক্ষাবিদসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন ও গীতা পাঠ করা হয়। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
অনুষ্ঠানে সহযোগী সংগঠনগুলোর পরিচিতি ও সাংগঠনিক আলোচনা পর্বে বাংলার বাঘ ফাউন্ডেশন, চিন্তা পরিষদ, ব্রজমোহন বইবন্ধু এবং ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটির প্রতিনিধিরা নিজ নিজ সংগঠনের কার্যক্রম, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।
এ সময় বাংলার বাঘ ফাউন্ডেশনের সামাজিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। অতিথিদের মধ্যে সংগঠনটির পরিচিতিমূলক পোর্টফোলিও বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি শেরেবাংলা রিসার্চ সেন্টারের সঙ্গে ফাউন্ডেশনের সম্পৃক্ততা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সাংগঠনিক অনুদানসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
প্রবন্ধ পাঠ পর্বে বাংলার বাঘ ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি ফারজানা ফেরদৌস ‘শিক্ষা বিস্তারে শেরেবাংলা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে শিক্ষা বিস্তারে শেরেবাংলার অবদান, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও সমাজ সংস্কারে তাঁর ভূমিকা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব, প্রজাস্বত্ব আইনসহ তাঁর রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক অবদানের বিভিন্ন দিক আলোচনায় স্থান পায়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল গুণীজন সংবর্ধনা। এ পর্বে মোট পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাঁদের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ, লেখক ও গবেষক মুসলেম উদ্দিন এবং শিক্ষক ও গবেষক সাইফুল হাসান বুলবুল উল্লেখযোগ্য। তাঁদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সবশেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের শুভেচ্ছা বক্তব্য ও আয়োজকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হকের জীবন ও কর্ম তুলে ধরা, তাঁর অবদান নিয়ে গবেষণা ও চর্চা বাড়ানো এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও গবেষণাভিত্তিক সংগঠনগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা সম্ভব হবে।