
এমদাদুল কাশেম সেন্টু, উজিরপুর প্রতিনিধিঃ
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফিরোজ হাওলাদারের বিরুদ্ধে সরকারি জমি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা দখল করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের অভিযোগ ওঠার একদিন পর তিনি এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, তিনি কোনো সরকারি, খাস জমি কিংবা পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা দখল করেননি। যে জমিতে তিনি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করছেন, সেটি তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি এবং বৈধ কাগজপত্রের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ভোগদখলে রয়েছে। ফিরোজ হাওলাদার বলেন, এসএ, বিএস ও অনলাইন মিউটেশন রেকর্ড অনুযায়ী তিনি ওই জমির মালিক হিসেবে ভোগদখলে রয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জমিটির বর্তমান বিএস রেকর্ডে খতিয়ান নম্বর ১৩৪২ এবং দাগ নম্বর ২৫৬১। এর আগে এসএ রেকর্ডে দাগ নম্বর ছিল ১১৪৮। এছাড়া জমি সংক্রান্ত ১৬১২/০৫ নম্বর দলিলটি উজিরপুর সাবরেজিস্টার অফিসে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। তিনি আরও দাবি করে বলেন হারতা-রাজাপুর ব্রিজসংলগ্ন কঁচা নদীর তীরে যে জায়গায় নির্মাণকাজ চলছে, সেটি কোনো সরকারি বা খাস জমি নয়। নিজের মালিকানাধীন ও ভোগদখলীয় জমিতেই নিচের অংশ পাকা করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করছেন। সরকারি সম্পত্তি দখল কিংবা পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা দখলের যে অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেন তিনি। ফিরোজ হাওলাদার বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়কে ব্যবহার করে সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগও তিনি প্রত্যাখ্যান করছেন। তাঁর দাবি, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কোনো সম্পত্তি দখল বা অবৈধভাবে সম্পদ গড়ার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তিনি বৈধ মালিকানার কাগজপত্রের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট জমি ভোগদখল করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানান তিনি। এর আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগের বরাত দিয়ে সরকারি পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি দখল করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। তবে ওই অভিযোগের বিষয়ে ফিরোজ হাওলাদারের বক্তব্য ছিল, তিনি কোনো বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন না এবং তাঁর দলিলকৃত জমিতেই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজ করছেন। এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহেশ্বর মন্ডল জানিয়েছিলেন, বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।