
নিউজ ডেস্ক: বিপিডব্লিউএন কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২৪-২০২৭ বাস্তবায়নের প্রয়াসে দেশব্যাপী আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় আজ ০৮ জুন ২০২৬ খ্রি. বরিশাল জেলা পুলিশ লাইন্স গ্র্যাটিচিউড হলে এক পরামর্শমূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মশালায় বরিশাল বিভাগ/রেঞ্জ এর ৮৮ জন পুলিশ কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় জনাব রুনা লায়লা, অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ সহ এবং বিপিডব্লিউএন প্রতিনিধি অ্যাডিশনাল ডিআইজি (রিপেয়ার এন্ড মেনটেনেন্স) জনাব খন্দকার শামীমা ইয়াসমিন, জয়েন্ট পুলিশ কমিশনার স্টেট জনাব তাহমিনা তাকিয়া।
কর্মশালার প্রথম পর্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সম্মানিত ডিআইজি, পুলিশ সদর দপ্তর, বাংলাদেশ পুলিশ জনাব তাপতুন নাসরীন মহোদয়। নারী পুলিশ সদস্য দের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আপনারা প্রত্যেকেই সমাজের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত বা রোল মডেল। আপনারা নিজেদেরকে এমনভাবে দক্ষ ও সক্ষম হিসেবে গড়ে তুলবেন, যাতে পরিবার, সমাজ, কর্মক্ষেত্র এবং রাষ্ট্র—সর্বত্র আপনাদের রোল মডেল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আত্মউন্নয়নের জন্য তদন্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর কাজে নিজেদের দক্ষ করে তুলুন। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহায়তা নিন এবং তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করার আহবান জানান। প্রয়োজন হলে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও বিনিয়োগের মাধ্যমেও নিজেদের সক্ষমতা উন্নত করুন। তিনি আরও বলেন কর্মক্ষেত্রে কোন ধরনের হ্যারাসমেন্টের শিকার হলে প্রতিকারের জন্য প্রত্যেকটি ইউনিটে থাকা প্রতিকার কমিটির নিকট অভিযোগ জানান। এ ধরনের বিষয়ে সচেতনতা ও সাহসিকতা অত্যন্ত প্রয়োজন।“
বিপিডব্লিউএন প্রতিনিধিবৃন্দ বিপিডব্লিউএন কৌশলগত পরিকল্পনার মূল ক্ষেত্রগুলো, কর্ম-জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার উপায়, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তি-সহায়তায় জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা মোকাবেলার উপায়, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং কর্ম-জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার উপায় নিয়ে আলোচনা করার জন্য বেশ কয়েকটি বিষয়ভিত্তিক অধিবেশন পরিচালনা করেন। ইউএন উইমেন প্রতিনিধি কর্মশালায় জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশিং কার্যক্রম এবং কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন।
পুলিশ কর্মকর্তারা জেন্ডার-রেসপনসিভ পুলিশিং, অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়ন, সাইবার নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া, পাশাপাশি কর্মঘণ্টা, বদলি প্রক্রিয়া এবং পদায়ন সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে, এবং পুলিশ সদস্যরা এসব বিষয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করেছেন।
কর্মশালায় উপস্থিত সম্মানিত কমিশনার বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ ও বিশেষ অতিথি জনাব আশিক সাঈদ মহোদয় বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের এ ধরনের একটি সময়োপযোগী কর্মশালাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই কার্যক্রম যেন শুধু কর্মশালার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, এটাকে ধারণ করতে হবে এবং কর্মক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়াও তিনি বলেন উইমেন নেটওয়ার্কের কার্যক্রম দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে এখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করেছে। এটা শুধু নারী পুলিশ সদস্যদের কে নিয়ে নয় বরং সকল ধরনের পুলিশিং এর ক্ষেত্রে নারীরা যাতে সমানতালে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে সে লক্ষ্যে কাজ করছে।
২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিপিডব্লিউএন আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় নারীর নেতৃত্ব শক্তিশালী করা এবং বাংলাদেশ পুলিশের মধ্যে জেন্ডার সমতা অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। ইউএন উইমেন এবং বিপিডব্লিউএন যৌথভাবে নারী পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা তৈরি এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করে আসছে, যার মধ্যে জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশি ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগী-কেন্দ্রিক জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) সেবা শক্তিশালীকরণ অন্তর্ভুক্ত। উল্লেখ্য যে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত, জেলা কমান্ডের পদ এবং বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনসহ বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন পদে ১৭,৯৮৮ জন নারী কর্মরত আছেন।
ইউএন উইমেন প্রতিনিধি এবং প্রোগ্রাম ম্যানেজার – শ্রবণা দত্ত বলেন, “এই কর্মশালার মাধ্যমে জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশি ব্যবস্থা, কর্মক্ষেত্রে সমতা ও নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে এবং এটি যৌথ পেশাগত উন্নয়নের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। আমাদের কৌশলগত পরিকল্পনা যেন কেবল দলিলেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং মাঠপর্যায়ে বাস্তব ও অর্থবহ পরিবর্তন আনে—এই লক্ষ্যেই আমরা একত্রিত হয়েছি এবং কাজ করে যাব।“
ইউএন উইমেন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ পুলিশ ও বিপিডব্লিউএন-এর সঙ্গে কাজ করছে। বর্তমানে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ইউএন উইমেনের বাংলাদেশে চলমান “জনপরিসর, কর্মক্ষেত্র এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন ও জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা নিরসন” প্রকল্পে বাংলাদেশ পুলিশ অন্যতম প্রধান সরকারি অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে।