
নিজস্ব প্রতিবেদক :দীর্ঘ তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের আদর্শের প্রতি অবিচল রয়েছেন মোহাম্মদ দেলোয়ার। রাজনৈতিক জীবনে হামলা, মামলা ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও থেমে যাননি তিনি। বরং প্রতিটি বাধাকে সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করে আবারও ফিরেছেন আন্দোলনের ময়দানে।
বিএনপির এই ত্যাগী কর্মীর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ১৯৯৬ সালে হামলার শিকার হওয়া। ওই সময় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের হামলায় তার একটি হাত প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর আহত হয়। পরবর্তীতে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচি ‘চল চল ঢাকা চল’-এ অংশ নিতে গিয়ে লঞ্চে হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে লঞ্চ থেকে ফেলে দেওয়ার ঘটনাও স্মরণ করেন দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা। ২০১২ সালের ‘চল চল ঢাকা চল’ কর্মসূচিতে বরিশাল মহানগর বিএনপি নেতা জিয়াউদ্দিন শিকদার, কামরুজ্জামান রতন, মাহফুজুর রহমানসহ অনেকের সঙ্গে লঞ্চযোগে ঢাকা অভিমুখে যাত্রা করেছিলেন তিনি। ঢাকা সদরঘাটে শ্রমিক লীগের হামলায় মৃতপ্রায় অবস্থায় তাকে লঞ্চ থেকে ফেলে দেওয়া হয়।
শুধু রাজপথের আন্দোলন নয়, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকেন্দ্রিক বিভিন্ন আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন দেলোয়ার। ছাত্রলীগের হামলার ঘটনায় চিকিৎসকরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়লেও জাতীয়তাবাদী আদর্শের এই কর্মী তখনও প্রতিবাদে সোচ্চার ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে বেশ কয়েকটি মামলা ও কারাবরণেরও মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বিভিন্ন সময়ে তাকে হয়রানি ও ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয়েছে। এসব ঘটনার স্মৃতি ও কারাবরণের ছবিও তার রাজনৈতিক জীবনের সংগ্রামের সাক্ষী হয়ে রয়েছে।
বর্তমানে দেলোয়ার বরিশাল মহানগর যুবদলের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক এবং জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি শেবাচিম আউটসোর্সিং কল্যাণ সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর সংগঠনটির সদস্যদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে যে আলোচনা রয়েছে, সেখানেও সোচ্চার ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দেলোয়ার। তার ভাষ্য, হাসপাতাল হবে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবার নিরাপদ ও আস্থার জায়গা— কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা অনিয়মের কারণে যেন রোগী ও স্বজনদের হয়রানির শিকার হতে না হয়।
রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা বলছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা আঘাত ও প্রতিকূলতার মধ্যেও দেলোয়ারের হাসিমুখে পথচলা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। শরীরে বহন করা পুরোনো ক্ষতগুলো তার কাছে কেবল আঘাতের স্মৃতি নয়; বরং দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও দলের প্রতি তার কমিটমেন্টের প্রতীক। দেলোয়ারের মতো ত্যাগী ও মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের মধ্য দিয়েই বিএনপির রাজনীতি আরও শক্তিশালী ও জনসম্পৃক্ত হবে বলে মনে করছেন তার সহকর্মীরা।