
মোঃএমদাদুল কাসেম সেন্টু, উজিরপুর প্রতিনিধিঃ বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ধামুরা-শোলক-বাটাজোর সড়কে ধামুরা খালের উপর নির্মিত ব্রীজের পূর্ব পাড়ে অচিরেই অ্যাপ্রোচ ও রাস্তা নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ধামুরা ব্রীজের সামনে মানববন্ধনে অংশগ্রহন করে হাজারো বিক্ষুব্ধ নারী-পুরুষ জনতা ও এলাকাবাসী । মানববন্ধনে বক্তৃতা করেন উজিরপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ জামাল তালুকদার, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ কামাল তালুকদার,উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ সোহাগ খান, উপজেলা কৃষক দলের আহবায়ক মোঃ স্বপন মল্লিক, শোলক ইউনিয়নের সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মোঃ জসিম খলিফা, শোলক ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক কামাল দেওয়ান। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান শুক্তি বসুন্ধরা কনস্ট্রাকশন বরিশালের উজিরপুরে প্রায় ৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ব্রীজের সংযোগ সড়কের অভাবে দেড় বছর ধরে কার্যত অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ব্রীজটির মূল নির্মাণকাজ শেষ হলেও দুই পাশে পূর্ণাঙ্গ সংযোগ সড়ক না থাকায় এখনো যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি। সংযোগ সড়কের জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের কারণে আটকে আছে নির্মাণকাজ। এতে বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোটি জনগণের কোনো কাজে আসছে না।বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত ৪৪ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার ব্রীজটি চুক্তিমূল্য ৬ কোটি ৮৩ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩৫ টাকা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকল্প-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ সেতু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ব্রীজটি নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই। চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ করার নির্ধারিত তারিখ ছিল ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো পুরোপুরি চালু হয়ননি। ব্রীজটির সঙ্গে সংযোগ সড়কের পথ প্রকল্পের নকশায় ১৪৯১ ও ১৫১১নং দাগে সরকারি খাস জমি নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু সেতুর দুই পাশে ঢাল নামানোর অ্যাপ্রোচ কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ ভাবে সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে ব্রীজটি চালু হলে ধামুরা, শোলক, রত্নপুর ও বাটাজোরসহ আশপাশের এলাকার মানুষের যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং জরুরি রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। কিন্তু নির্মাণ শেষ হওয়ার পরও ব্রীজটি ব্যবহার করতে না পারায় এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকাবাসী। এছাড়া লাখো জনগনকে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এদিকে অচিরেই ওই ব্রীজটির অ্যাপ্রোচ নির্মাণ করা না হলে পরবর্তীতে আরো কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি পালন করার হুশিয়ারি দেন বিক্ষুব্ধ জনতা।