1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. litonbayzid@gmail.com : Litonbayzid :
  3. barishaljanapad24@gmail.com : Litonbsl :
ডাঃ আশীষের অবহেলায় চিকিৎসক দম্পতির নবজাতকের মৃত্যুঃ তদন্ত কমিটি গঠন - Barishal janapad ।। বরিশাল জনপদ
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বরিশাল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের মিলনমেলায় তালাশ বিডির দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন উজিরপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা কাদায় আটকে গেলেন ইউএনও, তবুও থামেননি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে বরিশাল জেলা জামায়াতের নবনির্বাচিত আমীর ড. মাহফুজুর রহমানের শপথ গ্রহণ উজিরপুরে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২) এবং নতুন কুঁড়ি অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন উজিরপুরে হা-ডু-ডু ফাইনালে শিমুলতলার জয়, পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি – সান্টু কবিরাজির আড়ালে কিশোরীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ, প্রধান অভিযুক্ত গ্রেফতার বাকেরগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন কমিটি গঠন, সভাপতি রিমন, সম্পাদক মোর্শেদ,সাংগঠনিক বেলাল উজিরপুরে বিএনপি ও এমপি সান্টুকে নিয়ে উদ্দেশ্য প্রোণোদিত অপপ্রচাররের বিরুদ্ধে উপজেলা বিএনপির সংবাদ সম্মেলন উজিরপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্রেস্ট ফিডিং কর্ণার শুভ উদ্বোধন করেন শরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু – এমপি
নোটিশ :
জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে।

ডাঃ আশীষের অবহেলায় চিকিৎসক দম্পতির নবজাতকের মৃত্যুঃ তদন্ত কমিটি গঠন

  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
  • ৩২৮ 0 বার সংবাদি দেখেছে

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: বরিশাল বেলভিউ হাসপাতাল এবং শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আশীষ কুমার হালদারের অবহেলায় ও ভুল চিকিৎসায় এক চিকিৎসক দম্পতির নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নবজাতকের বাবা বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের অর্থপেডিক বিভাগের মেডিকেল অফিসার এবং মা একজন এমবিবিএস ডাক্তার। ২১ দিন বয়সে নবজাতকের মৃত্যুর পর তার বাবা নিজের ফেসবুক ভেরিফাইড আইডিতে এই নির্মম অবহেলা জনিত মৃত্যুর বর্ননা তুলে ধরেন। এ ঘটনায় নেট দুনিয়া সহ বরিশালের সচেতন মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতিবাচক পোস্ট দেখেই তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে বেলভিউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের হাসপাতাল স্টাফ বা কর্তৃপক্ষের কোন অবহেলা আছে কিনা সে বিষয়ে সঠিক তথ্য উদঘাটন ও ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেলভিউ মা ও শিশু হাসপাতলের সিইও রিয়াজ হাসান।
এদিকে পোস্টের শুরুতেই ডা. ইসতিয়াক অহমেদ রিফাত লিখেছেন, আমার ‘ইজান’ আল্লাহর হুকুমে আল্লাহর কাছে চলে গেছে। বিনিময়ে আমাকে দেখিয়ে গেছে বরিশালে শিশু চিকিৎসার করুণ অবস্থা। তাছাড়া বেলভিউ হাসপাতালে তেমন কোন চিকিৎসা না পেলেও তারা ১লক্ষ ১১ হাজার টাকা বিল গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
এরপর তিনি পুরো ঘটনার বর্ননা দিতে গিয়ে লিখেন, ২১ এপ্রিল রাত এগারটায় জরুরী ভিত্তিতে সিজারিয়ান এর মাধ্যমে মমতা হাসপাতালে আমার একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। গাইনি ম্যাম নিজেই ডা:আশিষ স্যারকে ডেলিভারির সময় বলে রাখেন। সিজার হলো। ইজান দুনিয়াতে আসলো। আশীষ স্যার প্রাইমারি রিসাসিটেশন করলেন। ইজান হালকা করে কাদলো। আশিষ স্যার প্রেস্ক্রিবশন করলেন আর বললেন শেবাচিম অথবা বেলভিউ হাসপাতালে নিতে পারেন।
সিজারের এক ঘন্টা পর রাত বারোটার দিকে বেলভিউতে নিয়ে গেলাম। সেখানে গিয়ে আরেক ক্যাচাল। ডা:আশিষ স্যার তার প্রেস্ক্রিবশনে নরমাল বেড বা ইনকিউবেটরে কিছুই লিখেন নাই। আর অত রাতে স্যারকে কল দেয়া যাবে না। তাই তারা জেনারেল কেবিনে দিল। শুধু একটু অক্সিজেন লাগিয়ে দিল। আর ডাক্তার পরিচয় দেবার পরেও তাদের জঘন্য ব্যবহারের কথা আর নাই বলি।
সারা রাতে একবার তারা খোজ নিতে আসলো না। হঠাত সন্ধ্যার পরে ইজান অসুস্থ্য হয়ে যায়। স্যাচুরেশন ফল করে। আবার অক্সিজেন লাগানো হলো। এরপরো অবস্থার উন্নতি না হওয়াতে আশিস স্যারকে ডিউটি ডাক্তার কল দেয়। সে রুডলি বলে শেবাচিম বা ঢাকা নিতে। এতটুকু অসুস্থ্য একটা বাচ্চাকে ঢাকা নেয়া পসিবল? আবার বাচ্চাটি বেশি অসুস্থ্য হয়ে পড়ার পর ডিউটি ডাক্তার কল দিল। আমি কল দিলাম। আমি কল দিয়ে পা ধরছি। তাও আশিষ স্যার আসবেন না। শেষে শেবাচিম ড্যাবের প্রেসিডেন্ট ডা:নজরুল স্যার কল দেয়াতে তিনি আসেন এবং চিকিৎসা দেন। দিন দিন বাচ্চাটা ফ্লপি হয়ে যাচ্ছে সেটা আর খেয়াল করলেন না। আমাদেরও কিছু বলেন না। কথা একটাই,উন্নতি নাই। এর বাইরে কোন কাউন্সিলিং নাই।
এরপর আমরা ঢাকা যাওয়ার প্রস্তুতি নিলাম। বেলভিউর রিসিপশনে বললাম আমি ডাক্তার,আমার স্ত্রী ডাক্তার। তারপরও খুবই বাজে একটা মন্তব্য পাইলাম। একদিন দুপুরে দুর্ভাগ্যক্রমে আমার বউ ডা:নুসাইবা এবং তার এক মেয়ে কাজিন হাসপাতালে ছিল। ইজানকে জরুরী একটা টেস্ট করতে দেয়। আমার স্ত্রী নুসাইবা বেলভিউর কাউন্টারে গিয়ে ডাক্তার এবং মা পরিচয় দেবার পরেও বাজে বিহাভের স্বীকার হয়।
পোস্টের শেষে মন্তব্যে তিনি লিখেন, বেলভিউ কর্তৃপক্ষ ডাক্তার কাপলের সাথে যদি এরকমটা করতে পারে, তাহলে অন্যান্য মানুষের সাথে কি করবে?
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ডা. আশীষ কুমার হালদার। তার শশুর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নিশি ভোটের একাধিকবার এমপি। স্বাচিপ এর রাজনীতির সাথে জড়িত ডা. আশীষ। এক সময় তার কলমের ধারে অনেক নীরিহ পেশাদার চিকিৎসককে হয়রানী হতে হয়েছে। বরিশাল সদররোড বেলভিউতে তিনি নিজ মালিকানায় একটি এনআইসিইউ গড়ে তুলেছেন। শুধু বিল নেওয়ার বেলায় সেটি এনআইসিইউ হলেও সেখানে আসলে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সামগ্রী ও ব্যবস্থাপনা নেই। মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে সেখান থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছেন ডা. আশীষ এবং বেলভিউ কতৃপক্ষ। এর পূর্বেও একাধিক বাচ্চাকে ভুল চিকিৎসা প্রদানের অভিযোগ রয়েছে ডা. আশীষের বিরূদ্ধে।
এ বিষয়ে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ডা. আশীষ কুমার হালদার বলেন, বাচ্চাটি আমার আন্ডারে বেলভিউতে ভর্তি ছিল। সাধ্যমত চিকিৎসা প্রদানের চেষ্টা করেছি, আমি আমার রাউন্ড ফি পর্যন্ত নেইনি। তাছাড়া কোন ডাক্তার ইচ্ছা করে কোন রোগীগে ভুল চিকিৎসা করেন না।
বেলভিউ মা ও শিশু হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রিয়াজ হাসান বলেন, এ বিষয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আসল তথ্য পাবো। যেহেতু আমাদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি তদন্তানাধীন তাই এর বেশি এখন বলা সম্ভব নয়।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ