
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: আজ ১লা ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রবিবার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও নবাগত সদস্যদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনার রুম ‘কীর্তনখোলা হলে’ এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম। প্রধান আলোচক ছিলেন ঢাকা রিপোর্টার ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন। সভাপতিত্ব করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি আরিফ হোসাইন এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু উবাইদা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরু, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান মো. ফরহাদ উদ্দীন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা ও জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন মহোদয়।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রেস ক্লাবের ভূমিকা তুলে ধরে তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন প্রচার সম্পাদক মো. সিয়াম। একপর্যায়ে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব কর্তৃক প্রকাশিত দেয়ালিকার মোড়ক উন্মোচন করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন,
“আমাদের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কুলাঙ্গার, ছাত্রলীগ ও ছাত্রলীগের ল্যাস্পেন্সার কিছু ছিল সাংবাদিকতা করত যারা, আন্দোলনকে নস্যাত করার জন্য বিভিন্নভাবে নিউজ কাভার করেছিল। আমি অনুরোধ করব প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে, তারা যেন সেদিকে দৃষ্টি রাখে, তারা যেন এই গাদ্দারগুলোকে কোনোভাবেই প্রেসক্লাবে স্থান না দেয়, কোনো সাংবাদিক প্ল্যাটফর্মে যেন কোনোভাবেই স্থান না দেয়”।
তিনি আরো বলেন,
“বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি জায়গা, যেখানে সমস্ত দলমত নির্বিশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে সবাই কিন্তু একজায়গায় বসার মতো অবস্থা আমাদের আছে, এবং এই অবস্থা তৈরীর পেছনে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।”
জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন হাফিজ আশরাফুল হক বলেন,
“সাংবাদিকতা করে মানুষ সাংবাদিক হয়, না সাংঘাতিক হয়, এটা আমার বড় প্রশ্ন, গত সতেরো বছর দেখেছি আমি। হাসিনার ফ্যাসিস্ট হওয়ার পিছনে বা ফ্যাসিজম কায়েমের পিছনে এই সাংবাদিকদের বিরাট অবদান, আপনারা যে যাই বলুন।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন,
“সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে, টেন্ডার সম্পন্ন করে ছাড়পত্র সবই হয়ে গেছে, হয়তো আর এক মাসের মধ্যেই কাজ শুরু হয়ে যাবে, দৃশ্যমান হবে। তো এই যে সংবাদ প্রচারিত হয়েছে, আমি প্রতিটাকেই পজিটিভ সংবাদ হিসেবে দেখি। এই যে দেখলাম, মেয়েদের হলে পানি সংকট, এই সংবাদের প্রেক্ষিতেই তো চারটা হলে ছাদের উপর ট্যাংকি লাগানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন,
“এমন এমন সংবাদ আপনারা উপস্থাপন করবেন যেগুলো গুরুত্বপূর্ণ, যেগুলো প্রকাশ করলে সমস্যার সমাধান হবে, সেইসব বিষয়গুলো আপনারা তুলে ধরবেন, তাহলে আমাদের সমাজের অনেক সমস্যা দূর হবে। এমন এমন সংবাদ না করাই উচিত যেগুলো কোনো উপকারে আসবে না।”
এছাড়াও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাংবাদিকদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিকদের কাজের প্রশংসা করে বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থী ও সংগঠনগুলোর পক্ষে যেসব বিষয় তুলে ধরা সম্ভব হয় না, সাংবাদিকরা তা সহজেই উপস্থাপন করতে পারেন। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের মাঝে সম্মাননা স্মারক প্রদান এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা হয়।