
নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ ১৫০১তম বিলাদাত উপলক্ষে বরিশাল সিটিতে বৃহত্তর জশনে জুলুস বের করেছে অরাজনৈতিক দ্বীনি সংগঠন দাওয়াত ইসলামী বাংলাদেশ। শুক্রবার ( ৪ই সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাদ জুমুয়া নগরির আমতলা পানির টাংকি থেকে জুলুসটি বের করা হয়।এটি নগরীর আমতলা,বাংলাবাজার, পুলিশ লাইন, জিলা স্কুল, শহীদ মীনার, কাকলীর মোড় হয়ে টাউন হল গিয়ে সমাপ্ত হয়। ইয়া নবী সালাম আলাইকা, মোস্তফা জানে রহমত পে লাখো সালাম ধ্বনিতে, মাদানী পতাকা নিয়ে আশেকে রসূল জুলুসে অংশ নেন।
জুলুস শেষে মিলাদ, কেয়াম ও দেশ জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করে এবং শহীদদের রুহের মাগফেরাত ও অসুস্থদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ’১৫০১তম এর তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা করেন। এ সময় বক্তারা বলেন “ঈদে মিলাদুন্নবী” ﷺ বলতে নবীজী ﷺ এর আগমনের খুশী উৎযাপন করাকে বুঝায়।
দাওয়াতে ইসলামীর বরিশাল বিভাগীও সভাপতি সৈয়দ আলফে সানী আত্তারী, বরিশাল সিটি সভাপতি জনাব মুহাম্মদ কামাল আত্তারীর সভাপতিত্বে , আরো উপস্থিত ছিলেন মুহাম্মদ সুলায়মান আত্তারী , মাওলানা জাবের ইসলাম আত্তারী , মুহাম্মদ আবুল হোসেন আত্তারী, মুহাম্মদ মিজান আত্তারী, মুহাম্মদ রাইসুল ইসলাম আত্তারী, মুহাম্মদ হাসান আত্তারী, মুহাম্মদ আহাদ হোসেন কাদ্বরী প্রমুখ।
এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন “আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত প্রাপ্তিতে খুশি পালন কর যা তোমাদের সমস্ত ধন দৌলত অপেক্ষা শ্রেয়। – (সূরা ইউনুস-৫৮) এবং “স্মরণ কর আল্লাহর নিয়ামতকে যা তোমাদের উপর অবতীর্ণ হয়েছে” -(সূরা বাক্বারা-২৩১), আরেক আয়াতে বলা হয় “হে হাবীব, নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি” – (সূরা আম্বিয়া-১০৯)
এই তিনটি আয়াত একত্রিত করে বিবেচনা করলে দেখা যাবে আল্লাহর প্রিয় নবী ﷺ আমাদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ রহমত। তাই তিনি যেদিন দুনিয়াতে তাশরীফ এনেছেন, সেদিনকে স্মরণ করে আমাদের খুশি পালন করা উচিত। আর এই কাজটিকেই বলা হয় ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অর্থাৎ নবীজীর আগমনে খুশী উৎযাপন করা। খুশী মানেই নবীর শানে দরুদ পড়া, আল্লাহর জিকির করা, নবীজির জীবনী নিয়ে আলোচনা করা ইত্যাদি।
আমাদের প্রিয় নবী ﷺ নিজেই নিজের মিলাদের দিনকে পালন করতেন! তা কিভাবে?
হযরত আবু কাতাদা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত নবী কারিম ﷺ ইরশাদ করেন, এই দিনেই আমি প্রেরিত হয়েছি (জম্ম গ্রহণ করেছি) এবং এই দিনেই আমার উপর পবিত্র কুরআন নাযিল হয়। (সহীহ মুসলিম শরীফ) সাহাবায়ে কেরাম আলাইহিমুর রিদওয়ান মিলাদুন্নবীর আলোচনা করতেন উল্লেখ করে
বক্তারা বলেন, হযরত ইবনে আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, একদিন তিনি কিছু লোক নিয়ে নিজ গৃহে নবী করীম ﷺ এর জন্মকালীন ঘটনাবলী বর্ণনা করছিলেন এবং তাঁর প্রশংসাবলী আলোচনা করে দুরুদ ও সালাম পেশ করছিলেন। ইত্যবসরে প্রিয় নবী ﷺ হাজির হয়ে এ অবস্থা দেখে বললেন, তোমাদের জন্য আমার শাফায়াত আবশ্যক হয়ে গেল। – (ইবনে দাহইয়ার আত-তানবীর)
অতএব আসুন আমরা ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ শরিয়ত ভিত্তিক উদযাপন করি এবং নবী ﷺ-এর সুন্নতের আমলদার হওয়ার জন্য কাফেলায় সফর করি। দাওয়াতে ইসলামী বিশ্বের প্রান্তে নবী ﷺ-এর সর্বোত্তম আদর্শ তথা সুন্নতে কারিমাকে প্রতিষ্ঠার জন্য নেকির দাওয়াত প্রচার করছে আসুন আমরা সকলেই দাওয়াত ইসলামীকে সহযোগিতা করি। বক্তারা উপরোক্ত আলোচনায় অরাজনৈতিক দ্বীনি সংগঠন দাওয়াতে ইসলামীর দ্বীনি কাজের সাথে সম্পৃক্ততা ও মাদানী চ্যানেল বাংলা দেখার জন্য অনুরোধ করেন।