মোঃএমদাদুল কাসেম সেন্টু, উজিরপুর প্রতিনিধিঃ ধান ও পানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, কৃষি উপকরণের সিন্ডিকেট বন্ধ, বানরের উপদ্রব থেকে ফসল ও মানুষকে রক্ষা এবং পান রপ্তানি বৃদ্ধিসহ ১১ দফা দাবিতে বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় মানববন্ধন করেছেন কৃষক, খেতমজুর ও পান চাষিরা। ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উপজেলার ইচলাদী বাসস্ট্যান্ডে জাতীয় কৃষক-খেতমজুর সমিতি ও বাংলাদেশ পান চাষী সমিতির উজিরপুর উপজেলা কমিটির উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে কৃষকের উৎপাদিত ধান ও পানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্থানীয় ফড়িয়া ও অসাধু চক্রের সিন্ডিকেট ভেঙে কৃষকদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সার, বীজ ও কীটনাশক সহজলভ্য করা এবং কৃষি উপকরণের বাজারে অবৈধ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উজিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় বানরের উপদ্রবের বিষয়টিও স্মারকলিপিতে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, বানরের কারণে পানবরজ, ধানখেতসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। বানর বসতবাড়িতে প্রবেশ করে খাদ্যসামগ্রী নষ্ট করার পাশাপাশি মানুষকে আক্রমণ করছে। প্রতি মাসে ১০ থেকে ১৫ জন মানুষ বানরের কামড়ের শিকার হচ্ছেন বলেও দাবি করা হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বানরের জন্য পর্যাপ্ত খাবার ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে জনসাধারণকে আক্রমণের ঝুঁকি থেকে রক্ষার দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো, দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষকে রেশন কার্ডের আওতায় আনা এবং সবার জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ওষুধের দাম কমানোর বিষয়টিও দাবির তালিকায় রয়েছে।
পান রপ্তানি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা দূর করার দাবি জানিয়ে স্মারকলিপিতে বলা হয়, পান রপ্তানিকারক সমিতির নামে গড়ে ওঠা কথিত সিন্ডিকেটের কারণে প্রকৃত রপ্তানিকারকেরা হয়রানি ও চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে পান রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি নিরসনে সংশ্লিষ্ট সমিতির অনুমোদন বাতিল এবং প্রকৃত রপ্তানিকারকদের নির্বিঘ্নে পান রপ্তানির সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি পানচাষিদের সহজ শর্তে স্বল্পসুদে কৃষিঋণ প্রদান, পান গবেষণাকেন্দ্র ও সংরক্ষণাগার স্থাপন, পানভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা এবং চাষিদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে। পানচাষিদের আর্থিক ঝুঁকি কমাতে পানবিমা চালু এবং দেশের পানচাষ ও রপ্তানি খাতের উন্নয়নে জাতীয় পানবোর্ড গঠনেরও আহ্বান জানানো হয়। এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলী সুজা বলেন, “কৃষক, খেতমজুর ও পানচাষিদের উত্থাপিত দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। তাঁদের সমস্যাগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে যাচাই করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
জাতীয় কৃষক-খেতমজুর সমিতি ও বাংলাদেশ পান চাষী সমিতির উজিরপুর উপজেলা কমিটির পক্ষ থেকে কৃষক, খেতমজুর ও পানচাষিদের স্বার্থ রক্ষা, উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত এবং পান রপ্তানির বাধা দূর করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।