1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. litonbayzid@gmail.com : Litonbayzid :
  3. barishaljanapad24@gmail.com : Litonbsl :
বরিশালের ‘বিউটি সিনেমা হল’ জমি ঘিরে কোটি টাকার বিরোধ - Barishal janapad ।। বরিশাল জনপদ
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বরিশালের ‘বিউটি সিনেমা হল’ জমি ঘিরে কোটি টাকার বিরোধ চিকিৎসা শেষে নিজ এলাকায় ফিরতেই গুঠিয়া বন্দরে সংবর্ধনা, নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস শ্রমিকের অধিকার উপেক্ষা করে কোনো ব্যবস্থা নয়: আতিকুর রহমান চ্যানেল আই’র ২৮ বছরে বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের শুভেচ্ছা ঢাকা এভারকেয়ার হাসপাতালের সাথে রাহাত আনোয়ার হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা চুক্তি স্বাক্ষরিত উদ্যোক্তা মাইষা মৃত্যুর ভুল বোঝাবুঝির অবসান, ডা: তহুরার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রত্যাহার উপাসনালয়ে ভাতাঃ সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও আমাদের প্রত্যাশা দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা: জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার নিন্দা ও উদ্বেগ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উজিরপুরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা এসএসসি পাস ৩ বন্ধু নিহত হাসপাতালে সাংবাদিক বেলায়েত বাবলুর পাশে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা
নোটিশ :
জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে।

বরিশালের ‘বিউটি সিনেমা হল’ জমি ঘিরে কোটি টাকার বিরোধ

  • প্রকাশিত : সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৬ 0 বার সংবাদি দেখেছে

স্টাফ রিপোর্টার : বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী ‘বিউটি সিনেমা হল’ ও সংলগ্ন প্রায় ৪০ শতাংশ জমি ঘিরে কোটি কোটি টাকার লেনদেন, দ্বৈত বায়না, চুক্তি ভঙ্গ, গোপনে হেবা দলিল সম্পাদন, ভবনে অগ্নিসংযোগ, দখলের চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ী আবুল হাসান কুদ্দুস ও তার অংশীদাররা এসব অভিযোগ করেছেন জমিটির মালিক জুলফিকার আলী চৌধুরী ওরফে জুলু চৌধুরী, তার ছেলে আশিক চৌধুরী এবং বিদেশে অবস্থানরত মেয়ে আঁখি বেগমের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, জমিটি কেনা এবং পরবর্তী সময়ে সেখানে ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য তারা বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেন। বায়না, ডেভেলপমেন্ট ও অংশীদারিত্বের বিভিন্ন চুক্তির ভিত্তিতে বিনিয়োগের পরও সম্পত্তির মালিকানা ও প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এমনকি চুক্তি বহাল থাকা অবস্থায় জমির একটি অংশ গোপনে হেবা দলিলের মাধ্যমে মালিকানা পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।
ব্যবসায়ী আবুল হাসান কুদ্দুসের অভিযোগ অনুযায়ী, বিউটি সিনেমা হলসহ প্রায় ৪০ শতাংশ জমির মূল্য প্রায় ৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করে জমির মালিক জুলফিকার আলী চৌধুরীর সঙ্গে তাদের রেজিস্ট্রি বায়না সম্পাদিত হয়।
কুদ্দুসের দাবি, বায়না রেজিস্ট্রির সময় নগদ ১ কোটি টাকা দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ধাপে আরও ১ কোটি ৭ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। সব মিলিয়ে জুলফিকার আলী চৌধুরীকে ২ কোটি ৭ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তবে অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থ নেওয়ার পরও একই সম্পত্তি নিয়ে আক্তারুজ্জামান নামে অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে পুনরায় রেজিস্ট্রি বায়না করা হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রথম পক্ষের সঙ্গে চুক্তি বহাল থাকা অবস্থায় একই সম্পত্তি নিয়ে দ্বিতীয় পক্ষের সঙ্গে চুক্তি করায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকির মধ্যে পড়েন।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য জুলফিকার আলী চৌধুরীর কাছে চাপ দেওয়া হয় বলে জানান কুদ্দুস।
ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে নতুন সমঝোতা
পরবর্তী সময়ে তাদের একজন ডেভেলপার কাজী মফিজুল ইসলামের কাছে নেওয়া হয়। এরপর জমিতে একটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে ভুক্তভোগীদের ভাষ্য।
তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় আবুল হাসান কুদ্দুসসহ তিন অংশীদারকে প্রকল্পে মোট ৩০ শতাংশ অংশীদারিত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। প্রত্যেকের অংশ নির্ধারণ করা হয় ১০ শতাংশ করে।
প্রকল্পের স্টল ও ফ্ল্যাট বিক্রির প্রথম লভ্যাংশ থেকে তাদের পূর্বের বিনিয়োগের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছিল বলে দাবি করেন তারা।
এ পর্যায়ে পূর্বের বায়না বাতিল করে ডেভেলপার হিসেবে কাজী মফিজুল ইসলামকে যুক্ত করে নতুন পার্টনারশিপ ডিড সম্পাদন করা হয়। বিনিয়োগের অর্থ ফেরতের নিশ্চয়তা হিসেবে ২ কোটি টাকার পাঁচটি চেক দেওয়ার কথাও জানান ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এরপর প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়।
আবুল হাসান কুদ্দুসের দাবি, কাজী মফিজুল ইসলাম প্রকল্পে প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন। একই সময়ে জুলফিকার আলী চৌধুরীকেও আরও প্রায় ২ থেকে আড়াই কোটি টাকা দেওয়া হয়।
পূর্বের অর্থসহ সব মিলিয়ে প্রকল্পটিতে বিনিয়োগের পরিমাণ ১০ কোটি টাকার বেশি দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
কিন্তু এই বিপুল বিনিয়োগের পরও প্রকল্পের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে বিরোধ দেখা দেয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর অংশটি হলো—পার্টনারশিপ ও প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থাতেই জুলফিকার আলী চৌধুরী গোপনে তার ছেলে আশিক চৌধুরীর নামে সম্পত্তি হেবা দলিল করে দেন।
তাদের দাবি, পরে ওই হেবা দলিলকে ভিত্তি করে আশিক চৌধুরী অন্য ডেভেলপারদের কাছে প্রকল্পটি হস্তান্তর বা বিক্রির চেষ্টা করেন।
এতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করা ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। একদিকে তাদের দাবি করা বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্ব, অন্যদিকে সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তনের উদ্যোগ—দুইয়ের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
আবুল হাসান কুদ্দুসের অভিযোগ, পাওনা অর্থ ও চুক্তির অধিকার দাবি করার পর থেকেই তাদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা শুরু হয়।
তার দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে বুলডোজার ব্যবহার করে ভবনের একটি অংশ ভেঙে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারা আবার নিজেদের কার্যালয়ে বসার চেষ্টা করলে নতুন করে চাপ ও হয়রানির ঘটনা শুরু হয় বলে দাবি কুদ্দুসের।
তার আরও অভিযোগ, একপর্যায়ে তাদের সরিয়ে দিতে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয়। তবে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বায়না, ডেভেলপমেন্ট চুক্তি, পার্টনারশিপ ডিডসহ বিভিন্ন কাগজপত্র উপস্থাপন করেন। এরপর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টরা সরে যান বলে দাবি করেন তিনি।
বিউটি সিনেমা হলের ভবন নিয়ে অভিযোগের আরেকটি গুরুতর অধ্যায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা।
কুদ্দুসের অভিযোগ, ভবনে আগুন দেওয়ার আগে গভীর রাতে তাদের ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগের লাইন কেটে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নগরীর লিমন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, আশিক চৌধুরীর নির্দেশে লিমন এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
এরপরই ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন কুদ্দুস। তার অভিযোগ, ভবনটি খালি করা এবং জমি থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
তাদের দাবি, অগ্নিসংযোগের পেছনে কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন।
কুদ্দুসের দাবি, জমি ও ভবন নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থাতেই লিমন নামের ওই ব্যক্তি আশিক চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির এক সাবেক নেতার মাধ্যমে অন্য ডেভেলপারদের সঙ্গে নতুন করে চুক্তির উদ্যোগ নেন।
এ সময় মোটা অঙ্কের চেক লেনদেনের মাধ্যমে একটি চুক্তি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
কুদ্দুসের অভিযোগ, ওই চুক্তির পর থেকেই তাদের বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগ, উচ্ছেদ এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানিমূলক মামলার ভয় দেখানো শুরু হয়। এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
একই সঙ্গে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত যাতে না হয়, সে জন্য প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় তদবির করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন কুদ্দুস।
ভুক্তভোগী আবুল হাসান কুদ্দুস আরও অভিযোগ করেন, আশিক চৌধুরীর বোন আঁখি বেগম বিদেশে অবস্থান করেও বিষয়টিতে প্রভাব বিস্তার করছেন।
তার অভিযোগ, আঁখি বেগম যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফোন করে দেশের বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে তাদের ভয়ভীতি দেখান। এমনকি প্রাণনাশ ও গুমের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কুদ্দুসের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তারা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেও রয়েছেন। জমি ও প্রকল্প নিয়ে আইনি লড়াই চললেও প্রতিপক্ষ বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে তাদের পিছু হটানোর চেষ্টা করছে।
আবুল হাসান কুদ্দুসের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আশিক চৌধুরী বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে তাদের ভয়ভীতি দেখাতেন।
তার দাবি, আশিক চৌধুরীর তৃতীয় স্ত্রী আমিনা বেগমের সিলেটে গ্রামের বাড়ি থাকার সূত্র ধরে সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সুমনের আত্মীয় পরিচয় ব্যবহার করেও তাদের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে।
এছাড়া বরিশাল মহানগরের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর সহধর্মিণী লিপি আবদুল্লাহর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে দাবি করেও তাদের ভয় দেখানো হতো বলে অভিযোগ করেন কুদ্দুস।
তিনি আরও দাবি করেন, আশিক চৌধুরী বরিশাল মহানগরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ছাত্রলীগের সভাপতি পদে মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। এসব রাজনৈতিক পরিচয় ও যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার।
আবুল হাসান কুদ্দুস আশিক চৌধুরীর বিদেশে অবস্থান ও প্রবাসী পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
তার দাবি, আশিক বিভিন্ন আদালত ও বিভিন্ন স্থানে নিজেকে বিদেশে বসবাসকারী প্রবাসী হিসেবে পরিচয় দেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি সেসব মামলায় পলাতক অবস্থায় রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন কুদ্দুস।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের নথি রয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা।
বিউটি সিনেমা হলের জমিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ নিয়ে।
ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, বায়না, ডেভেলপমেন্ট এবং পার্টনারশিপের বিভিন্ন পর্যায়ে ১০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, বিপুল অর্থ বিনিয়োগের পরও চুক্তির শর্ত উপেক্ষা করে সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং নতুন ডেভেলপারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
এতে একদিকে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ঝুঁকির মুখে পড়েছে, অন্যদিকে জমির প্রকৃত মালিকানা ও বিভিন্ন চুক্তির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক বিরোধ নয়; এর সঙ্গে বিপুল অঙ্কের অর্থ, জমির মালিকানা, ডেভেলপমেন্ট চুক্তি এবং একাধিক পক্ষের স্বার্থ জড়িত। ফলে কেবল পক্ষগুলোর বক্তব্যের ভিত্তিতে নয়, দলিলপত্র ও আর্থিক লেনদেন যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা বের করা সম্ভব।
ব্যবসায়ী আবুল হাসান কুদ্দুস ও তার অংশীদাররা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিচার বিভাগের কাছে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
তাদের দাবি, বায়না দলিল, পার্টনারশিপ ডিড, চেক, অর্থ লেনদেনের নথি, হেবা দলিল, ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা এবং পরবর্তী সময়ে করা বিভিন্ন চুক্তি একসঙ্গে পর্যালোচনা করলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হতে পারে।
একই সঙ্গে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কারা জড়িত, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সঙ্গে কারা সম্পৃক্ত, জমি নিয়ে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় নতুন করে কারা ডেভেলপমেন্ট চুক্তি করেছে এবং কারা তাদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি ও চাপ সৃষ্টি করেছে—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভুক্তভোগী পক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা বৈধ কাগজপত্র ও বিনিয়োগের প্রমাণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা, প্রভাবশালী মহলের চাপ ও ভয়ভীতির কারণে তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে আশিক চৌধুরী, আঁখি বেগম এবং অভিযোগে উঠে আসা অন্যান্য ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগের চেস্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি ফলে বক্তব্য গ্রহন সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য, দলিলপত্র, আদালতের নথি, অর্থ লেনদেনের প্রমাণ এবং অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করলেই বিরোধের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।
বরিশাল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সম্পত্তি ‘বিউটি সিনেমা হল’ ও সংলগ্ন প্রায় ৪০ শতাংশ জমিকে ঘিরে কোটি কোটি টাকার লেনদেন, মালিকানা বিরোধ, চুক্তি, হেবা দলিল, অগ্নিসংযোগ ও ভয়ভীতির অভিযোগ ইতোমধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এই বিরোধের নিষ্পত্তিতে প্রভাব নয়, বরং দলিলপত্র, অর্থের উৎস ও লেনদেন, চুক্তির ধারাবাহিকতা এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সামনে আনা জরুরি। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং বিনিয়োগকারীদের আইনগত অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ