মোঃএমদাদুল কাসেম সেন্টু, উজিরপুর প্রতিনিধি: বরিশালের উজিরপুর পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডে মাহার গ্রামের চর এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের অর্থায়নে বাঁশ ও সুপারী গাছের তৈরী সাঁকো ফিতা কেটে উদ্বোধন করেছেন পৌর বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম খান। ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেলে সাঁকো উদ্বোধনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামীলীগের আমলে কুমার বাড়ি বাজারের ভেলি ব্রিজের পাশ হয়ে পাল বাড়ির সামনে দিয়ে ৭/৮ নং ওয়ার্ডের চর এলাকায় জনসাধারণের জন্য পৌর সভার অর্থায়নে ইট সলিং রাস্তা তৈরী করা হয়। তৈরী করার রাস্তার মাজখানে মাহার গ্রামে জাকির হোসেন ঘরামীর বাড়ি থেকে আকাব্বর মৃধার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার মাজখানে ভেঙ্গে যায় এবং জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায়। রাস্তার হেরিংবোন সড়কটি ভাঙ্গাচোরা হওয়ায় এবং জোয়ারের সময় পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয় । বিশেষ করে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থী,দিন মজুর,জেলে ও খালের আশপাশের বাসিন্দাদের। রাস্তা পানিতে চলিয়ে যায় এব্যাপারে পৌরসভার একাধিকবার অভিযোগ দেয়ার পরেও কোন সহযোগীতা করেনি। সহযোগীতা না পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের অর্থায়নে বাঁশ ও সুপারিগাছ দিয়ে ২ শত ফুট সাঁকোটি নির্মাণ করেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে ভুক্তভোগী এলাকা বাসীরা পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম খানকে ডেকে আনেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করান । এ সময় স্থানীয় নারী-পুরুষ ছাড়াও বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। কমল মতি শিক্ষার্থীরা বাঁশের সাঁকোর দুই পাশে লাল ফিতা, কদম ফুল ও নানা রংয়ের বেলুর বেধে রাখেন এবং উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্থানীয় এক বাউলশিল্পী মোঃ মজিবর বয়াতী সাঁকোর ওপর দাঁড়িয়ে তাৎক্ষণিক স্বরচিত গান পরিবেশন করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পৌর বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম খান কেচি দিয়ে সাঁকোর সামনে টানানো লাল ফিতা কাটছেন। পরে তাঁর এক সমর্থকের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে বিষয়টি নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন। একজন মন্তব্য করেন, ‘এই উদ্বোধন শেখ হাসিনার পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকেও হার মানিয়েছে।’ অপর একজন লেখেন, ‘পাকা রাস্তার ওপর বাঁশের সেতু দিয়ে ফ্লাইওভার তৈরি করেছেন।’পৌর বিএনপির সভাপতি হওয়ায় এবং পৌর মেয়র প্রার্থী হওয়ায় কেউ কেউ সাঁকো উদ্বোধনে ফিতা ও কাঁচি ব্যবহারের বিষয় নিয়েও মন্তব্য করেন।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পৌর সভায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন সহযোগিতা পাইনি। সাঁকোটি নির্মাণের ফলে তাঁদের চলাচলে সুবিধা হয়েছে । জোয়ারের সময় রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেলেও সাঁকো দিয়ে পারাপার করা যাবে। এ বিষয়ে পৌর বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘স্থানীয়দের অর্থায়নে নির্মিত সাঁকোটি উদ্বোধন করতে পেরে আমি আনন্দিত। স্থানীয় মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্যই এটি করা হয়েছে।’
পৌর বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির একাধিক নেতা বলেন, ‘স্থানীয় মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগটি ইতিবাচক। এলাকার বাসিন্দা মোঃ মজিবর রহমান বলেন, ‘জোয়ারের পানি সড়কে উঠে যাওয়ায় বর্ষাকালে এলাকার মানুষের চলাচলে সমস্যা হয়। বিশেষ করে ৩ শত বাসিন্দাদের দুর্ভোগ ও পোহাতে হয় । এ কারণে আমরা নিজেদের অর্থায়নে সাঁকোটি নির্মাণ করেছি এবং মোঃ শহিদুল ইসলাম খানকে ডেকে এনে উদ্বোধন করিয়েছি । পৌরসভার এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন বিষয়টি আমরা জানি,সরকারী বাজেট না থাকায় সহযোগীতা করতে পারিনী।