
মাসুদ রানা, বরিশাল প্রতিনিধি : দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ উজিরপুরে স্কুল পথে উত্ত্যক্ত করায় ক্লাশে যেতে পারছে না দশম শ্রেনির ছাত্রী। সম্প্রতি আবার ওই ছাত্রী এবং তার মাকে পুড়িয়ে মারার চক্রান্তে প্রতিপক্ষরা বৈঠক হয়েছে বলে একটি মোবাইল অডিও কলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ভয়ে আতংকে নিজ স্কুলের দুই শিক্ষককে বাড়ীতে টিউটর রেখে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে। ভুক্তভোগি ওই স্কুলছাত্রীর নাম কংকা ইয়াসমিন (১৫)। সে বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহি ওটরা হাই স্কুলের ১০ম শ্রেনীর ছাত্রী। ভুক্তভোগি এই ছাত্রীর একটাই ভাষ্য, সে প্রতিপক্ষের হাত থেকে মুক্ত হতে চায়। নিয়মিত স্কুলে ফিরতে চায়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, উজিরপুর দক্ষিণ ওটরা বাজার সংলগ্ন হাওলাদার বাড়ী। মরহুম ইয়াসিন আলী হাওলাদারের মেয়ে জিনিয়া ইয়াসমিন মনি তার দশম শ্রেনী পড়ুয়া মেয়ে কংকাকে নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকেন। জমি সংক্রান্ত জেরে প্রতিপক্ষরা তার মেয়েকে স্কুলে যেতে দিচ্ছে না। দফায় দফায় হামলা ও মারধর করছে। থানায় জিডি (জিডি নংÑ৫৭১) করার পর কিছু দিন শান্ত থাকলেও এখন আবার পুড়িয়ে মেরে ফেলতে চাইছে। স্কুল ছাত্রী কংকা জানান, মায়ের সাথে তিনি নানা বাড়িতে থেকে পড়ালেখা করছেন। তার পরিবারের সাথে জমি জমা নিয়ে বাড়ীর উপরের হাসান লাল মিয়া নামের একজনের সাথে দ্বন্ধ রয়েছে। সেই কারন ধরে, প্রতিনিয়ত আমাকে হয়রানী করে। স্কুলের উদ্দেশ্যে কিংবা কোন কাজে বের হলে লাল মিয়া বিভিন্ন অচেনা লোক নিয়ে পথে ঘাটে আমাকে খারাপ ভাষায় গালি গালাজ করে। ভয়ে আমি প্রায় ৩ বছর যাবৎ নিয়মিত স্কুলে যাই না। সম্প্রতি আমাকে ও আমার মাকে পুড়িয়ে মারা হবে বলে পাশের বাসার মালিক সচিব সাইদুর রহমান মাসুদ আঙ্গেলের ফুফাতো বোন আখি আমাদের জানিয়েছেন। সে কারনে ভয়ে এখন আর স্কুলে যাচ্ছি না। আমার স্কুলের দু’জন শিক্ষক হাসান স্যার ও রাব্বী স্যার আমাকে বাসায় এসে পড়ান। স্কুল ছাত্রীর মা জিনিয়া ইয়াসমিন জানান, তার বাবা জীবিত থাকাকালীন সময়ে কাষ্টম অফিসার ছিলেন। তখন তাদের বাড়ীর উপরেই বসবাসরত হাসান লাল মিয়া আমাদের হালট কাজ ও বাড়ী ঘর দেখাশুনা করতো। ভাই বোনরা কর্ম ও বিয়ে হয়ে যাওয়ার কারনে বিভিন্ন স্থানে সেটেল হয়। আমাদের বাড়ী ঘর মানুষ শূন্য হয়ে যায়। এই ফাঁকে জমিজমা দেখা শুনার নামে হাসান লাল মিয়া পাশের বাসার মিজান, সাইদুর রহমান মাসুদ আমার বাবার সম্পত্তি দখল করা শুরু করে। যখন আমার স্বামীর বাড়ীতে সমস্যা হয় তখন আমি একমাত্র মেয়ে কংকাকে নিয়ে বাবার বাড়ীতে থাকা শুরু করি। সেই থেকেই হাসান লাল মিয়ার গাত্রদাহ শুরু হয়। হাসান লাল পাশের বাসার সাইদুর রহমান মাসুদের সেল্টার নিয়ে আমাকে ও আমার মেয়েকে বাড়ীতে বসে প্রায় সময়ই মারধর করতে আসে। আমার মেয়ে স্কুলে গেলে পথে ঘাটে লাল মিয়ার নেতৃত্বে বিভিন্ন লোকজন হয়রানী করে। যার দরুন তার মেয়ে স্কুলে যেতে পারছেনা। থানায় জিডি করার পর কিছুদিন অত্যাচার নির্যাতন থেমে ছিলো। ৫ আগষ্টের পর বিএনপির পরিচয় দিয়ে একই কাজ করছে। স্কুলের শিক্ষকদের বাসায় এনে পড়াচ্ছি। সম্প্রতি তাদের পুড়িয়ে মারার জন্য পায়তারা করছে । সাইদুর রহমানের ফুফাতো বোন আখি মোবাইল করে জানিয়েছে, হাসান লালরা আমাদের মা মেয়েকে পুড়িয়ে মেরে ফেলবে। তাই রাতে ঠিক মতো ঘুমাতেও পারি না। এবিষয়ে সত্যতা জানতে চাইলে মোবাইল এর একটি অডিও কল রেকর্ড সাংবাদিকদের কাছে দেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাসান লাল মিয়া জানান, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা। অপরদিকে একই বাড়ির উপরে বসবাসরত বৃদ্ধ সেকান্দার আলী সাংবাদিকদের জানান, হাসান লালরা কংকা ও তার মা জিনিয়া বেগমকে অত্যাচার করে। এটা ঠিক না। ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরো বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটবে। ওটরা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানান , কংকা তার স্কুলের ছাত্রী। তাদের সমস্যার কারনে কংকা নিয়মিত স্কুলে আসে না বলে জানিয়েছেন তার মা। কি সমস্যা তা আমাদের খুলে বলেননি। তাই আমরা স্কুল কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নিতে পারিনি।