বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি: বৈষম্য ও কোটা সংস্কারবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ বাবুগঞ্জের তিন সন্তান ফয়সাল আহাম্মেদ শান্ত, আব্দুল্লাহ আল আবির ও রাকিব আহমেদ এর স্মরণে অনুষ্ঠিত হয়েছে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এক আবেগঘন আয়োজন। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকাল ৮টায় বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা কেন্দ্রীয় কবরস্থানে এই তিন শহীদের কবর জিয়ারত, পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ফারুক আহমেদ এর নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেন বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুভাষ চন্দ্র সরকার , বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল আলম , শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা ও কালো ব্যাজ ধারণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এক বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপস্থিত অনেকে।
শহীদ ফয়সালের মা বলেন, “আমার ছেলেটা শুধু আমার না, সারা দেশের সন্তানের মতো ছিল। আজকের এ আয়োজন আমাদের অনেকটা সান্ত্বনা দিয়েছে।”
ইউএনও ফারুক আহমেদ বলেন, “এই শহীদদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ন্যায়বিচার ও সমতা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তাঁদের বলিদান আমাদের প্রেরণা। আমরা তাঁদের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য আরও কিছু উদ্যোগ নেবো।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন , যা বৈষম্যমূলক কোটানীতি ও প্রশাসনিক অন্যায়ের প্রতিবাদে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে, সেই উত্তাল দিনগুলোতে বাবুগঞ্জের এই তিন তরুণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সামনে এক পুলিশী হামলায় নির্মমভাবে প্রাণ হারান।
তাঁদের স্মরণে এবং আত্মত্যাগকে মূল্যায়ন করতে এই আয়োজন ছিল সময়োপযোগী ও গভীর তাৎপর্যময়।
এই শহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখতে বাবুগঞ্জ উপজেলায় একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁদের নামে স্কলারশিপ চালুর দাবিও উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে।
“জাতি আজ তাঁদের ভুলে যায়নি”— শহীদ শান্ত, আবির ও রাকিবের কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে ইউএনও ফারুক আহমেদসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।