মো:এমদাদুল কাসেম সেন্টু, উজিরপুর প্রতিনিধিঃ বরিশালের উজিরপুর উপজেলার উজিরপুর পৌরসভার জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রকৃত জমির মালিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক । ৯ জুলাই বুধবার বেলা ১১ টায় উজিরপুর প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে ভুক্তভোগী বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মো: সিরাজুল ইসলাম রাসেল লিখিত বক্তব্যে বলেন জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ আমাকে হেয়পূর্ন করতে হিন্দু সম্প্রদায় নবকুমার দাস গুপ্ত ওরফে ভানু মাষ্টারের জমি দখলের খবর ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে ।
প্রকৃত পক্ষে তৎকালীন স্বৈরাচার আওয়ামীলীগের আমলে আমার পৈত্রিক ও দলিলকৃত জমি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জোরপূর্বক দখল করে নেয় নবকুমার দাস গুপ্ত(ভানু মাষ্টার)গংরা। তিনি আরো বলেন আমি উজিরপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারন সম্পাদক তাই আওয়ামলীগের দোসররা আমাকে মামলা ও হামলা দিয়ে হয়রানি করেছিলো। তফসিল ভুক্ত জমিতে তাদের কোন অংশ নাই। আমরা কোন হিন্দুদের সম্পত্তি জোর পূর্বক দখল করি নাই। ভুমিদস্যু নবকুমার দাস গুপ্ত তাদের দখলবাজির ঘটনা ধামাঁচাপা দেয়ার জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশসহ বিভিন্ন মহলে অপপ্রচার চালায়। উক্ত প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। উজিরপুর মৌজার এস.এ. ৩৬ নং খতিয়ান, ৩৯, ৪০, ৪১ নং দাগে ১ একর রেকর্ডিও রেকর্ডীয় জমি রয়েছে। এর মধ্যে আমার দাদা অজেদ আলী রেকডিও ও ক্রয়সূত্রে মালিক ৭৫ শতাংশের। ৪০ নং দাগের ১২ শতাংশ জমি নিয়ে নবকুমার গংয়ের সাথে বিরোধ চলছে। তিনি বলেন,তাদের নামে কোনো বৈধ রেকর্ড নেই। আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল মজিদ শিকদার বাচ্চু ও পৌর মেয়র গিয়াস উদ্দিন বেপারী কাছে বহুবার অভিযোগ দিয়েও সমাধান পাইনি। এমনকি থানায় অভিযোগ দায়ের করেও সুফল পাইনি। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন রাজনৈতিক হয়রানির অংশ হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। ইতিপূর্বে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে একমাস ১৩ দিন জেলে রাখে। জামিনে মুক্ত হওয়ার পরও তিনি বারবার প্রশাসন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে ন্যায়বিচার চেয়ে গেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ার পর তিনি উজিরপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। থানার ওসি দুই পক্ষকে শালিশ বৈঠককের মাধ্যমে সমঝোতার প্রস্তাব দেন। এতে আমি রাজি হলেও নবকুমার দাস গুপ্ত গংরা কোনো শালিশ বা আপোষ মিমাংসা বসতে রাজী হয়নি । সংবাদ সম্মেলনে রাসেল প্রশাসনের কাছে দাবি জানান-বৈধ রেকর্ড অনুযায়ী জমি উদ্ধারে সহায়তা, হয়রানি মূলক মামলা ও অভিযোগের সঠিক তদন্ত পূর্বক ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানান। তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে বলেন আমি কোনো প্রতিশোধ চাইনা। এদিকে ওই প্রভাবশালীদের কবল থেকে দখল মুক্ত করার জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।