নিউজ ডেস্ক: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ লক্ষীপাশা গ্রামে মঙ্গলবার (৩ মে) সকালে এক হেফজতভরা ঘটনায় মোহাম্মদ খলিল গাজীর মরদেহ খড়ের গাদার পাশে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মৃতদেহ ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তথ্য অনুসারে, গত ২৯ এপ্রিল রাতের ঘনঘোর আঁধারের মধ্যে নিখোঁজ হওয়া খলিলের বিষয়টি নিয়ে তার পিতা মো. হাসান গাজী ২ মে বাউফল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। মৃতদেহের সাথে জানানো হয়েছে, খলিলের দুইটি শিশু সন্তান আছেন – নাম তাওহিদ ও আফরোজা।
পরবর্তী পর্যায়ে, স্থানীয় পুলিশ, মৃতদেহের স্বজন ও নাগরিকগণ এই ঘটনায় প্রাথমিক ভাবে হত্যাকাণ্ডের শঙ্কা পোষণ করছেন। নিহতের স্ত্রী তাসমিয়া বেগমের অভিযোগ, পূর্ব শত্রুতার প্রেক্ষিতে তাঁর স্বামীকে নিস্বার্থভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ও স্বজনেরা নির্মম তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
স্বজনেরা আরো বলেন, নারায়নগঞ্জের ফতুল্লায় নিবিষ্ট বিভিন্ন গার্মেন্টসে খলিল কাজ করতেন। গত রোজার ঈদে তিনি গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করতেন। পরে একটি মামলায় ওয়ারেন্ট থাকায় গ্রেফতার হওয়ার অভিযোগ থাকলেও, ২৩ এপ্রিল জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়িতে ফিরেন। ঢাকায় ফেরার সম্ভাবনা থাকলেও ২৯ই এপ্রিল রাতে ভিন্ন কোনো তথ্য না পাওয়ায় ঘটনা সন্দেহের মুখে পড়ে। খোলামেলাভাবে নিখোঁজ হওয়া সত্ত্বেও সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে ২ মে থানায় সংশ্লিষ্ট ডায়েরি করা হয় এবং পরবর্তীতে লোকাল এলাকার নজরে আসার পর গত সকাল মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আখতারুজ্জামান জানান, “গতকাল থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত ডায়েরি হোয়া ছিল; আজ লাশ উদ্ধার হওয়ার পর সুরতহাল সম্পন্ন করে প্রাথমিক পর্যায়ে সন্দেহ করা হচ্ছে যে এটি হত্যা।” তিনি দুর্ভাগ্যজনক এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ প্রক্রিয়া ও তদন্ত অর্জনের নিশ্চয়তা দিয়েছেন।
এই ঘটনা স্থানীয় সমাজে শোক ও উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। সতর্কতা ও ন্যায়বিচারের দাবি উঁচুতে তুলে, স্থানীয়রা গভীরভাবে প্রত্যাশা করছেন যে ঘটনার প্রকৃতপক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের পরবর্তী ফলাফল ও আরও তথ্য জানার প্রত্যাশায়, জনগণ আশাবাদী যে ন্যায়বিচার অবিচ্ছিন্নভাবে থাকবে।