শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি-আরডিইসি ভবন মিলনায়তনে এ মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি-আরডিইসি ভবন মিলনায়তনে এ মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময়ে অংশ নেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন, ফারজানা শারমিন পুতুল, সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম রনি, ডিইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক এম সাঈদ খান, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ফারহান আরিফ প্রমুখ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দেড় শতাধিক প্রতিবন্ধী নাগরিক এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রতিবন্ধী নাগরিক সংগঠনের পরিষদের (পিএনএসপি) সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুব এবং ইফতেখার মাহবুব।
অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘১৬ বছর ধরে আমরা এমন একটি বাংলাদেশে বসবাস করেছি, যেখানে আমাদের প্রাপ্য নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতা একে একে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষ রাষ্ট্রীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। প্রতিবন্ধীরাও তার ব্যতিক্রম নন। এর ফলে জীবনের মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি, যা ব্যক্তিগতভাবে আমিও অনুভব করেছি।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি জনগণের ভোটে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করলে সব সময় প্রতিবন্ধীদের পাশে থাকব। আমি বিশ্বাস করি, আপনারা কেউ প্রতিবন্ধী নন, বরং আপনারা সবাই বিশেষভাবে সক্ষম নাগরিক। আপনাদের প্রত্যেকের রয়েছে অসীম সক্ষমতা।’
তারেক রহমান বলেন, শারীরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেও যারা নিজ উদ্যোগে অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন, তাদের বিজয়ের গল্প আমাদের আলোর পথ দেখায়। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আগামীর বাংলাদেশে শারীরিক সীমাবদ্ধতা যেন কাউকে বৈষম্যের শিকার না করে, পিছিয়ে না রাখে, সেই বহুমুখী উদ্যোগ নিয়ে, জীবনযুদ্ধে বিজয়ের অজস্র প্রেরণাদায়ী গল্প সৃষ্টি করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, সুচিকিৎসা, শিক্ষার সুযোগ, চাকরির ক্ষেত্রে সমান সুযোগ এবং দেশের প্রতিটি স্থাপনা ও যাতায়াতব্যবস্থাকে প্রতিবন্ধীদের জন্য এক্সিসেবল করে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, ‘নতুন আইন প্রণয়ন, বিদ্যমান আইনের সঠিক বাস্তবায়ন, বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি কিংবা সেই অর্থের সুষ্ঠু বণ্টন—যেভাবেই হোক, আমরা চেষ্টা করব আপনাদের অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করতে। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে প্রত্যেকের জন্য সমান ন্যায্যতা ও একটি ফেয়ার শেয়ার নিশ্চিত থাকবে। সেই লক্ষ্যেই আজকের এই মতবিনিময় অনুষ্ঠান।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের প্রতিশ্রুতি হলো, ‘বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জীবনের মানোন্নয়নে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করা, যার ভিত্তি হবে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা, সামাজিক ক্ষমতায়ন এবং মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা। আমরা একটি স্বতন্ত্র অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেব, যা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রম সমন্বয় করবে।’
তারেক রহমান বলেন, ২০০১ সালে তত্কালীন বিএনপি সরকার বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিবন্ধীদের ভাতা প্রদান শুরু করলেও আওয়ামী লীগ সেই ভাতাকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে, নিজেদের নেতাকর্মীদের মাঝে লুটে নিয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হলে আমরা সেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কিছু ট্যাক্স সুবিধা বা কমপ্লায়েন্স সার্টিফিকেট প্রদান করার চিন্তাও করতে পারি। ‘সুবর্ণ নাগরিক কার্ড’ নামক যে তথাকথিত কার্ড রয়েছে, সেটিকে গতিশীল করে আমরা এর আওতায় স্বাস্থ্যবীমা, শিক্ষাবৃত্তি, পরিবহন ডিসকাউন্টসহ অন্যান্য সামাজিক সুবিধা প্রদান করতে চাই। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা যাতে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন, আমরা তাদের জন্য বাস্তবসম্মত ভোকেশনাল ও টেকনিক্যাল ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করব।’
তিনি আরো বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে আমরা প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপনের চেষ্টা করব, যেখানে শারীরিক থেরাপি, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রয়োজনীয় চিকিত্সার আধুনিক সুবিধা থাকবে। আমরা প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগণের জন্য মোবাইল হেলথ ক্লিনিক চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করব। সহায়ক উপকরণ তৈরির জন্য কারখানা স্থাপন এবং আমদানির ক্ষেত্রে কর মওকুফের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা থাকবে। গুরুতর প্রতিবন্ধীদের জন্য নিবিড় পরিচর্যার বিশেষ কর্মসূচি প্রণয়ন করার চেষ্টা করা হবে।’
প্রতিবন্ধীদের উদ্দেশে তারেক রহমান আরো বলেন, ‘আমরা সব সময় আপনাদের পাশে আছি এবং থাকব। কারণ, আপনাদের প্রতিবন্ধকতা আমাদের সবার প্রতিবন্ধকতা। আমি বিশ্বাস করি, আপনাদের পেছনে রেখে আমরা কখনো এগিয়ে যেতে পারি না, আর এগোতে চাইও না।’