
মো. সুজন মোল্লা, বানারীপাড়া: বলে ছিলো তুমিই আমার পৃথিবী। তোমাকে পেলে আমার জীবনে অন্য আর কিছুই চাইনা। তোমাকে চাঁদ এনে দেবো যদি তুমি আমার হও। হয়তো দু’জনেই বলেছিলো এমনটা। প্রথম দেখা মধুর কিছু স্মৃতি ভালোলাগা থেকে ভালেবাসা আর সেই ভালেবাসা থেকেই শুভ পরিণয়। এমনটাি হয়েছিলে এক প্রেমিক যুগলের মধ্যে।
সেই ভালোবাসি তোমাকে বলা বিশাল হৃদয়ের মানুষটার সাথে প্রথম প্রথম সংসার জীবনটা ভালো যাচ্ছিল। দু’জনের জীবন আলো করে বিচিত্র এ ভূবনে এসেছিলো কন্যা সন্তান তানহা। তার বয়স এখন দুই বছর।
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ব্রাক্ষ্মণকাঠি গ্রামের তৈয়ব আলী বেপারীর ছেলে সুমন বেপারীর সাথে ভালোবেসে ঘর বাঁধে চম্পা আক্তার (২২)। সেই প্রেমিক স্বামীই তাকে যৌতুকের জন্য হত্যা করেছে এমন অভিযোগ চম্পার পিতা-মাতার।
১৪ জানুয়ারী রবিবার রাত ১১টার দিকে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চম্পার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে ১৫ জানুয়ারী সোমবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ বরিশাল শেবাচিমের মর্গে পাঠানো হয়।
ময়না তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পরে ওই দিন বাদ আসর জানাজা শেষে উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের মহিষাপোতা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
এ বিষয়ে নিহত চম্পার মা রেবা বেগম বানারীপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। চম্পার বাবা-মা ও ভাইসহ স্বজনদের অভিযোগ, সুমন বেপারী তার ব্রাক্ষ্মণকাঠি গ্রামে সম্প্রতি ৬ শতক সম্পত্তি ক্রয় করে। ওই সম্পত্তি ক্রয় করতে গিয়ে সে ঋনগ্রস্থ হয়ে পড়ে। তা পরিশোধের জন্য স্ত্রী চম্পাকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে বলে সুমন।
মেয়ের সুখের কথা ভেবে চম্পার দরিদ্র পিতা-মাতা সমিতি থেকে ঋন নিয়ে জামাতাকে ১৫ হাজার টাকা দেন। এতে সুমন সন্তষ্ট না হয়ে স্ত্রীর কাছে আরও টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে তাদের সংসারে কলহ সৃষ্টি হয়। সুমন টাকার দাবিতে গালাগালসহ স্ত্রীকে নানাভাবে মানসিক ও শারিরীক নির্যাতন শুরু করে।
পরে গত ৮/৯দিন পূর্বে চম্পা শিশু কন্যাকে নিয়ে বানারীপাড়া পৌর শহরের এক নম্বর ওয়ার্ডে পিতা কুটিয়াল আনোয়ার মল্লিকের বাড়িতে এসে ওঠেন। ঘটনার দিন ১৪ জানুয়ারী রবিবার বিকেলে সুমন শ্বশুর বাড়ি থেকে স্ত্রীকে নিয়ে যেতে চাইলে দু’জনের মধ্যে কথাকাকাটি হয়। এসময় সুমন স্ত্রী চম্পাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও মারধর করতে তেড়ে আসলে শ্বশুর-শাশুড়ি তাকে নিবৃত করেন। ওই সময় সুমন তার বাড়ি ফিরে যায়।
পরে ওইদিনই সন্ধ্যা ৭টার দিকে চম্পা তার দুই বছরের শিশু কন্যা তানহাকে নিয়ে ব্রাক্ষ্মণকাঠি গ্রামে স্বামীর বাড়ি ফিরে যান। সেখানে যাওয়ার পরে তাদের মধ্যে পুনরায় ঝগড়াঝাটি হয়।
ওই দিন রাত ১০টার দিকে চম্পাকে অচেতন অবস্থায় তার শাশুড়িসহ প্রতিবেশীরা বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। চম্পার শ্বশুর তৈয়ব আলী বেপারী ও শাশুড়ি আলেয়া বেগমের দাবি ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে চম্পা আত্মহত্যা করেছে।
অপরদিকে চম্পার পরিবারের দাবি তাকে মারধর করে হত্যার পরে ঘরের আড়ার সঙ্গে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচারনা চালানো হচ্ছে।
এদিকে আদরের কন্যা চম্পাকে হারিয়ে তার পরিবারে বইছে শোকের মাতম। বাবা-মাসহ স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল ও এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাইনুল ইসলাম প্রেসক্লবাকে জানান, চম্পার প্রকৃত মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ইউডি মামলা নেওয়া হয়েছে । ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।